ব্রিটেনের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তনের দেখা মিলছে। সম্প্রতি ৪৩ বছর বয়সী জ্যাক পোলানস্কির নেতৃত্বে গ্রিন পার্টি কেবল পারিপার্শ্বিক পরিবেশের বিষয় নিয়ে নয়, সামাজিক অর্থনীতি, দরিদ্র-বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ব্যয়কে কেন্দ্র করে তাদের রাজনৈতিক বার্তাকে পুনর্গঠন করেছে। দেশের দুই প্রথাগত প্রধান দলের ক্রমশ দূর্বল হয়ে যাওয়ায় গ্রিন পার্টি তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে।
ম্যানচেস্টারে চমকপ্রদ জয়
ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টারের গর্টন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টি নাটকীয় বিজয় অর্জন করেছে। এই নির্বাচনটি এমন একটি এলাকার জন্য ছিল যেখানে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় নিশ্চিতভাবে জয়ী হয়েছিল। হানা স্পেনসারের নেতৃত্বে গ্রিনরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে জয়ী হয়ে জনমত আরও শক্তিশালী করেছে।

লেবার পার্টির পতন ও রাজনৈতিক সংকট
জ্যাক পোলানস্কির মতে, লেবার পার্টির পতন এবং গ্রিন পার্টির উত্থান মূলত এ কারণে যে বর্তমান লেবার সরকার সাধারণ মানুষের সেবা নয়, বরং ক্ষমতাধারী ও বিত্তশালীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। খাদ্য, বাসস্থান, জ্বালানি ও পানি খাতে বর্ধিত ব্যয় ও সামাজিক সেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলা সাধারণ মানুষকে অসন্তুষ্ট করেছে। লেবারের ক্রমাগত ব্যর্থতা তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিরক্তি এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করেছে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য ও পরিবেশগত সংকটের সমাধান
পোলানস্কি মনে করেন, পরিবেশগত সংকটকে সমাধান করতে হলে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ব্যয়বৃদ্ধির সমস্যা সমাধান অপরিহার্য। গ্রিন পার্টির নীতি অনুযায়ী, জল ও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় জনস্বত্ত্বে আনা, ভাড়া ও কর ব্যবস্থার সমতা নিশ্চিত করা, এবং বিত্তশালীদের সম্পদে ন্যায্য কর আরোপ করা সমাজ ও পরিবেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
গ্রিন পার্টির এই সাফল্য প্রমাণ করে যে তরুণ ও মধ্যবয়স্ক ভোটাররা প্রথাগত দুই দলের ব্যর্থতাকে উপেক্ষা করে নতুন ও বাস্তবিক রাজনৈতিক বিকল্পে ঝুঁকছে। জ্যাক পোলানস্কি বলেন, “আমরা শুধু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, আমরা বাস্তব পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে এগোচ্ছি। মানুষ সত্যিই এমন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত যা তাদের জীবনকে স্পর্শ করবে।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















