০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
মার্ক কারনির রাজনীতির উজ্জ্বল বছর: লিবারালদের সংখ্যা বাড়ছে কানাডায় ঢাকায় ডিএনসিসির আবর্জনাবাহী ট্রাকে চাপায় একজন নিহত বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট: তেলের দাম বাড়ছে, অর্থনীতি ঝুঁকিতে কুষ্টিয়ায় তিন শিশু হাম নিয়ে মারা গেছে এক কোম্পানিতে ৫০ বছর: অ্যাপলের চিরস্থায়ী যাত্রাপথ শিশুদের কান্না আর মা-বাবার আনন্দ: গাজা ফেরত পেল ১১ প্রিম্যাচিউর শিশু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে যাচ্ছে, থাকছে আওয়ামী করলে শাস্তির বিধান জেলখানায় ড্রোনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছানোর আতঙ্ক: নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ পশ্চিম এশিয়ার সংকটে মলিন ভারতের উৎপাদন: মার্চে চার বছরের সর্বনিম্ন স্তরে কার্যক্রম বাংলাদেশে ডিজেল সংকট, তাপপ্রবল তাপপ্রবাহ ও বোরো ধানের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতিতে অভাব ও ইরানের প্রস্তাবিত সমাধান: ট্রাম্পের কৌশল কি বদলাবে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের পরিণতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি সংকটে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালনায় গঠনগত ভুল ও অবস্থান পরিবর্তনের সংকেত বিশ্বদর্শীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুদ্ধ শেষ করার জটিল পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য ইরানের কাছ থেকে নিরস্ত্রীকরণ ও যুদ্ধবিরতি চেয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা প্রস্তাব নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

ত্রুটিপূর্ণ কৌশল এবং যুদ্ধের বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাদের যুদ্ধ শুরু করেছিলেন দ্রুত এবং সহজ শর্তে ইরানের সরকার পতনের প্রত্যাশায়। তারা ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সহনশীলতা ও প্রতিরোধক্ষমতা কম মূল্যায়ন করেছিলেন। এ যুদ্ধের ফলে তেলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি নৌ পথ হরমুজ প্রণালী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পের সম্প্রচারে বলা হয়েছিল যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে, কিন্তু বাস্তবে তিনি কোন কার্যকর পরিকল্পনা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন, তা স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়ার আহ্বান ইসরাইলের | দৈনিক  নয়া দিগন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অস্থিতিশীলতা
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে শাসনব্যবস্থার অভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের মনোভঙ্গি দেখা গেছে। তিনি এমন এক মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিজকে окруж করেছেন যারা প্রথাগত সংবিধানগত নীতির চেয়ে ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ট্রাম্পকে কোন কঠিন নিয়ন্ত্রণ দিতে ব্যর্থ হওয়া তার নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলেছে।

ধর্ম ও সামরিক কৌশলের সংমিশ্রণ
ট্রাম্প প্রশাসনে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্ব এমন ব্যক্তির হাতে যারা চরম খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী এবং সেনাবাহিনীর ওপর প্রার্থনার মাধ্যমে সহিংস সহায়তা চাইছেন বলে প্রকাশিত তথ্য সামনে এসেছে। যুদ্ধ এখন ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ আপিল আদালতের - BBC News  বাংলা

 

ইরানের সাথে সম্ভাব্য সমঝোতা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের দীর্ঘ ১৫ ধাপের শান্তি পরিকল্পনাকে দুটো মূল পয়েন্টে সীমিত করে ইরানের কাছ থেকে প্রায় বোমা‑যোগ্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জাবত করার প্রস্তাব নেওয়া যেতে পারে এবং বদলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সরকার পতনের চেষ্টাকে বাতিল করে দিতে পারে। এর ফলে যুদ্ধ-বিরতি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও হরমুজ প্রণালীর অবরোধ সব কিছু বন্ধ করার বিষয়ে সম্মতি তৈরি হতে পারে।

ইরানের পারস্য উপদেশক ও সামরিক ক্ষমতা
ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আইআরজিসি সংযুক্ত প্রভাবশালীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। সম্ভাবনা রয়েছে যে ইরান যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজার সমস্যার সমাধান নাও মিলতে পারে।

ওবামার কৌশল ও বর্তমান পরিস্থিতি
আগের প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০১৫ সালের চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করেছিলেন। সেই সময়ের সমঝোতা অনুযায়ী ইরান বোমা তৈরির উপাদান তৈরি করতে আধা বছর সময় নিত এবং বিশ্ব প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হতো। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে বেরিয়ে এ জায়গায় কোনো কার্যকর প্রতিস্থাপন কৌশল তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। ফলে ইরান পারমাণবিক সক্ষমতায় আরো এগিয়ে গেছে এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ‘জটিল সমস্যা’ হিসেবে গড়ে উঠেছে।

বারাক ওবামা - উইকিপিডিয়া

সম্ভাব্য সমাধান ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ শেষ করার আশ্বাস দিতে হবে, ইরানের পরিকাঠামো ধ্বংস বন্ধ করতে হবে এবং যদি ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করে এবং হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখে, তাহলে তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও অনুকূল করার প্রস্তাব দেওয়া উচিত। এসবই আজকের পরিস্থিতিতে স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া একটি কার্যকর ধাপ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্ক কারনির রাজনীতির উজ্জ্বল বছর: লিবারালদের সংখ্যা বাড়ছে কানাডায়

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতিতে অভাব ও ইরানের প্রস্তাবিত সমাধান: ট্রাম্পের কৌশল কি বদলাবে

০৩:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের পরিণতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি সংকটে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালনায় গঠনগত ভুল ও অবস্থান পরিবর্তনের সংকেত বিশ্বদর্শীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুদ্ধ শেষ করার জটিল পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য ইরানের কাছ থেকে নিরস্ত্রীকরণ ও যুদ্ধবিরতি চেয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা প্রস্তাব নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

ত্রুটিপূর্ণ কৌশল এবং যুদ্ধের বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাদের যুদ্ধ শুরু করেছিলেন দ্রুত এবং সহজ শর্তে ইরানের সরকার পতনের প্রত্যাশায়। তারা ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সহনশীলতা ও প্রতিরোধক্ষমতা কম মূল্যায়ন করেছিলেন। এ যুদ্ধের ফলে তেলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি নৌ পথ হরমুজ প্রণালী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পের সম্প্রচারে বলা হয়েছিল যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে, কিন্তু বাস্তবে তিনি কোন কার্যকর পরিকল্পনা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন, তা স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়ার আহ্বান ইসরাইলের | দৈনিক  নয়া দিগন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অস্থিতিশীলতা
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে শাসনব্যবস্থার অভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের মনোভঙ্গি দেখা গেছে। তিনি এমন এক মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিজকে окруж করেছেন যারা প্রথাগত সংবিধানগত নীতির চেয়ে ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ট্রাম্পকে কোন কঠিন নিয়ন্ত্রণ দিতে ব্যর্থ হওয়া তার নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলেছে।

ধর্ম ও সামরিক কৌশলের সংমিশ্রণ
ট্রাম্প প্রশাসনে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্ব এমন ব্যক্তির হাতে যারা চরম খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী এবং সেনাবাহিনীর ওপর প্রার্থনার মাধ্যমে সহিংস সহায়তা চাইছেন বলে প্রকাশিত তথ্য সামনে এসেছে। যুদ্ধ এখন ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ আপিল আদালতের - BBC News  বাংলা

 

ইরানের সাথে সম্ভাব্য সমঝোতা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের দীর্ঘ ১৫ ধাপের শান্তি পরিকল্পনাকে দুটো মূল পয়েন্টে সীমিত করে ইরানের কাছ থেকে প্রায় বোমা‑যোগ্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জাবত করার প্রস্তাব নেওয়া যেতে পারে এবং বদলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সরকার পতনের চেষ্টাকে বাতিল করে দিতে পারে। এর ফলে যুদ্ধ-বিরতি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও হরমুজ প্রণালীর অবরোধ সব কিছু বন্ধ করার বিষয়ে সম্মতি তৈরি হতে পারে।

ইরানের পারস্য উপদেশক ও সামরিক ক্ষমতা
ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আইআরজিসি সংযুক্ত প্রভাবশালীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। সম্ভাবনা রয়েছে যে ইরান যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজার সমস্যার সমাধান নাও মিলতে পারে।

ওবামার কৌশল ও বর্তমান পরিস্থিতি
আগের প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০১৫ সালের চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করেছিলেন। সেই সময়ের সমঝোতা অনুযায়ী ইরান বোমা তৈরির উপাদান তৈরি করতে আধা বছর সময় নিত এবং বিশ্ব প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হতো। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে বেরিয়ে এ জায়গায় কোনো কার্যকর প্রতিস্থাপন কৌশল তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। ফলে ইরান পারমাণবিক সক্ষমতায় আরো এগিয়ে গেছে এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ‘জটিল সমস্যা’ হিসেবে গড়ে উঠেছে।

বারাক ওবামা - উইকিপিডিয়া

সম্ভাব্য সমাধান ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ শেষ করার আশ্বাস দিতে হবে, ইরানের পরিকাঠামো ধ্বংস বন্ধ করতে হবে এবং যদি ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করে এবং হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখে, তাহলে তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও অনুকূল করার প্রস্তাব দেওয়া উচিত। এসবই আজকের পরিস্থিতিতে স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া একটি কার্যকর ধাপ হতে পারে।