০৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
দুবাইয়ে সোনার দামে পতন, যুদ্ধবিরতির আশা কমাল নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা ঝিনাইদহে চাচা-ভাতিজা বিদ্যুৎপৃষ্ঠে মৃত্যু জ্বালানি সংকটে সড়কে যান চলাচল কমেছে, ভাড়া বাড়ছে ক্রুড তেলের সংকট: এপ্রিল ১০-এর পর বাংলাদেশের একমাত্র রিফাইনারি  বন্ধ হয়ে যেতে পারে  রংপুর মেডিকেল কলেজে আইসিইউ সংকট: রোগীরা জীবনঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষবারের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান  ইসরায়েলের শহরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বহু আহত ইউএইতে হামলার ঘটনায় ঘানার নাগরিক আহত, টেলিকম কোম্পানি ভবন ড্রোন হামলার লক্ষ্য ইসরায়েলি হামলা তেহরান লক্ষ্য করলো ওপেক প্লাসের সতর্কবার্তা: তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে

এক কোম্পানিতে ৫০ বছর: অ্যাপলের চিরস্থায়ী যাত্রাপথ

১৯৭৬ সালের এক ছোট্ট ছেলে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সাপ্তাহিক বুধবার দুপুরে তার পুচ মোপেডে চড়ে অ্যাপল কম্পিউটারের কার্যালয়ে পৌঁছাত। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই সে কম্পিউটার প্রদর্শনের কাজ করত। ক্রিস এস্পিনোসা, যিনি পরে অ্যাপলের অষ্টম কর্মী হিসেবে পরিচিত হন, ছিলেন সেই সময়কার প্রযুক্তির উত্তেজনাপূর্ণ আবহে এক তরুণ যিনি কোম্পানির প্রথম প্রজেক্ট দেখাতেন।

অ্যাপলের দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসে এস্পিনোসার ভূমিকা অনন্য। কোম্পানির শুরুতে হোমব্রু কম্পিউটার ক্লাবের মতো স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স হবি গ্রুপে তারা একে অপরের সঙ্গে কম্পিউটার নিয়ে আলোচনা করতেন। প্রথমদিকে BASIC প্রোগ্রামিং ভাষায় অ্যাপল II-এর সফটওয়্যার তৈরির কাজ করতেন তিনি। ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলিতে এক বছরের জন্য বিরতি নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অ্যাপলে ফিরে আসেন, ব্যবহারকারীর জন্য ২০০ পৃষ্ঠার নির্দেশিকা লিখে।

One of Apple's First Employees Looks Back at 50 Years - The New York Times

কোম্পানির প্রথম দশক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে এস্পিনোসার দীর্ঘকালীন অবস্থানের কারণে বারবার ছাঁটাইয়ের সময়ও তিনি রক্ষিত থাকেন। তিনি বলেছেন, “আমি তখন ভাবছিলাম, আমি এখন কোথায় যাব, কলেজ ডিগ্রি নেই, একমাত্র কাজটি এক কোম্পানিতে।” এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, “যেখানে আমরা আলো জ্বালিয়েছিলাম, সেখানে আলো নিভানো পর্যন্ত আমি থাকব।”

১৯৯৭ সালে স্টিভ জবসের ফেরার পর অ্যাপল প্রযুক্তি জগতের এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। আইপড, আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের মাধ্যমে কোম্পানি বৈশ্বিক মানচিত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে অ্যাপলের মূল্য প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, বার্ষিক লাভ ১০০ বিলিয়নের বেশি এবং বিশ্বব্যাপী ২.৫ বিলিয়ন ডিভাইস ব্যবহার হচ্ছে।

আজ এস্পিনোসা অ্যাপল টিভির অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন। অ্যাপলের পরিবর্তনের সাথে সাথে সিলিকন ভ্যালিও বদলেছে। এস্পিনোসা মন্তব্য করেছেন, “আজকের প্রযুক্তি শুধু পরবর্তী বুদ্বুদ খুঁজে বের করার দিকে মনোনিবেশ করে, কিন্তু আমরা এখানে তা করি না। আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের স্বার্থেই।”

অ্যাপলের ইতিহাস শুধু প্রযুক্তি নয়, ধারাবাহিকতা, দৃঢ়তা এবং কর্মীসমূহের বিশ্বস্ততার এক প্রতীক। ক্রিস এস্পিনোসার জীবন এই ৫০ বছরের দীর্ঘ যাত্রাপথের প্রাণবন্ত সাক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাইয়ে সোনার দামে পতন, যুদ্ধবিরতির আশা কমাল নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা

এক কোম্পানিতে ৫০ বছর: অ্যাপলের চিরস্থায়ী যাত্রাপথ

০৫:২২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

১৯৭৬ সালের এক ছোট্ট ছেলে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সাপ্তাহিক বুধবার দুপুরে তার পুচ মোপেডে চড়ে অ্যাপল কম্পিউটারের কার্যালয়ে পৌঁছাত। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই সে কম্পিউটার প্রদর্শনের কাজ করত। ক্রিস এস্পিনোসা, যিনি পরে অ্যাপলের অষ্টম কর্মী হিসেবে পরিচিত হন, ছিলেন সেই সময়কার প্রযুক্তির উত্তেজনাপূর্ণ আবহে এক তরুণ যিনি কোম্পানির প্রথম প্রজেক্ট দেখাতেন।

অ্যাপলের দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসে এস্পিনোসার ভূমিকা অনন্য। কোম্পানির শুরুতে হোমব্রু কম্পিউটার ক্লাবের মতো স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স হবি গ্রুপে তারা একে অপরের সঙ্গে কম্পিউটার নিয়ে আলোচনা করতেন। প্রথমদিকে BASIC প্রোগ্রামিং ভাষায় অ্যাপল II-এর সফটওয়্যার তৈরির কাজ করতেন তিনি। ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলিতে এক বছরের জন্য বিরতি নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অ্যাপলে ফিরে আসেন, ব্যবহারকারীর জন্য ২০০ পৃষ্ঠার নির্দেশিকা লিখে।

One of Apple's First Employees Looks Back at 50 Years - The New York Times

কোম্পানির প্রথম দশক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে এস্পিনোসার দীর্ঘকালীন অবস্থানের কারণে বারবার ছাঁটাইয়ের সময়ও তিনি রক্ষিত থাকেন। তিনি বলেছেন, “আমি তখন ভাবছিলাম, আমি এখন কোথায় যাব, কলেজ ডিগ্রি নেই, একমাত্র কাজটি এক কোম্পানিতে।” এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, “যেখানে আমরা আলো জ্বালিয়েছিলাম, সেখানে আলো নিভানো পর্যন্ত আমি থাকব।”

১৯৯৭ সালে স্টিভ জবসের ফেরার পর অ্যাপল প্রযুক্তি জগতের এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। আইপড, আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের মাধ্যমে কোম্পানি বৈশ্বিক মানচিত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে অ্যাপলের মূল্য প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, বার্ষিক লাভ ১০০ বিলিয়নের বেশি এবং বিশ্বব্যাপী ২.৫ বিলিয়ন ডিভাইস ব্যবহার হচ্ছে।

আজ এস্পিনোসা অ্যাপল টিভির অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন। অ্যাপলের পরিবর্তনের সাথে সাথে সিলিকন ভ্যালিও বদলেছে। এস্পিনোসা মন্তব্য করেছেন, “আজকের প্রযুক্তি শুধু পরবর্তী বুদ্বুদ খুঁজে বের করার দিকে মনোনিবেশ করে, কিন্তু আমরা এখানে তা করি না। আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের স্বার্থেই।”

অ্যাপলের ইতিহাস শুধু প্রযুক্তি নয়, ধারাবাহিকতা, দৃঢ়তা এবং কর্মীসমূহের বিশ্বস্ততার এক প্রতীক। ক্রিস এস্পিনোসার জীবন এই ৫০ বছরের দীর্ঘ যাত্রাপথের প্রাণবন্ত সাক্ষ্য।