দুবাইয়ের স্বর্ণবাজারে সপ্তাহের শুরুতেই দামে কিছুটা নরম ভাব দেখা গেছে। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করায় সোনার দামে এই পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মিশ্র সংকেত বাজারে প্রভাব ফেলছে, যার সরাসরি প্রতিফলন পড়েছে দুবাইয়ের খুচরা বাজারেও।
সকালেই দামে পতন
সোমবার সকালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে দাঁড়ায় ৫৬০ দশমিক ৫০ দিরহাম, যা আগের দিনের ৫৬৩ দশমিক ৫০ দিরহাম থেকে কম। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমে হয়েছে ৫১৯ দিরহাম, যা আগে ছিল ৫২১ দশমিক ৭৫ দিরহাম। ফলে ক্রেতাদের জন্য সামান্য হলেও স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।
গত মার্চ মাসজুড়ে সোনার দামে দ্রুত উত্থান দেখা গেলেও এখন সেই গতি কিছুটা কমে এসেছে।

যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বদলেছে বাজারের মনোভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে শুরুতে কিছুটা পতনের পর সোনার দাম আবার সামান্য স্থিতিশীলতা পায়। তবে সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির আলোচনা বাজারে নতুন আশা তৈরি করেছে।
এই সম্ভাবনা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কিছুটা কমিয়েছে। যদিও সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবুও পরিস্থিতির এই পরিবর্তন স্বল্পমেয়াদে বাজারে প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধির সতর্কবার্তা আসায় বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জ্বালানি বাজারের প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে জ্বালানি বাজার। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে সোনার দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং তার ফলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।
তেলের দাম বাড়ার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয়ও বাড়ছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তকে বিলম্বিত করতে পারে। সাধারণত কম সুদের পরিবেশে সোনা ভালো পারফর্ম করে, তাই সুদ কমতে দেরি হলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য নতুন চাপ তৈরি করছে
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য সোনার বাজারে আরও চাপ তৈরি করেছে। মার্চ মাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ সুদ কমাতে তাড়াহুড়া করবে না।
একইসঙ্গে চলতি সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির বড় ধরনের বৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে মাসিক ভিত্তিতে ভোক্তা মূল্যসূচক প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গত সপ্তাহে সোনার দাম চার দিনের ধারাবাহিক উত্থানের পর হঠাৎ কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

ক্রেতাদের জন্য কী বার্তা
দামের এই সাময়িক পতন ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, বিশেষ করে মৌসুমি কেনাকাটার আগে। তবে বাজারে অস্থিরতা এখনো অনেক বেশি এবং তা পুরোপুরি নির্ভর করছে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দামের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি, তেলের দামের প্রবণতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতির ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















