বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আপাতত অস্থায়ী বন্ধের মুখে। এক এবং অর্ধ মাস ধরে ক্রুড তেলের আমদানি স্থগিত থাকায় বিদ্যমান স্টক মাত্র এপ্রিল ১০ পর্যন্ত উৎপাদন চালানোর যোগ্য।
তেল বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, রিফাইনারিতে থাকা স্টক—যার মধ্যে রয়েছে ট্যাঙ্কের তলায় জমে থাকা “ডেডস্টক” এবং পাইপলাইনে থাকা তেল—শুধু কয়েকদিনের জন্য উৎপাদন চালাতে পারবে। সাধারণত রিফাইনারি দিনে ৪,৫০০ টন ক্রুড তেল প্রক্রিয়াজাত করে, তবে সংকটের কারণে উৎপাদন কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামানো হয়েছে।
এপ্রিল ৪ তারিখের তথ্যমতে ব্যবহারযোগ্য ক্রুড তেলের মজুদ ২,০০০ টনের নিচে নেমে গেছে। এছাড়া প্রায় ১০,০০০ টন ডেডস্টক এবং ৫,০০০ টন পাইপলাইন তেল উদ্ধার করা হচ্ছে। পাইপলাইন থেকে তেল উত্তোলনের জন্য বিশেষ ট্যাঙ্কার ব্যবহার করতে হয়। এই মজুদ মিলিয়ে রিফাইনারির কার্যক্ষমতা মাত্র পাঁচ দিনের জন্য।

সরকার এই ব্যবধান পূরণ করতে তেল আমদানি নিশ্চিত করতে তৎপর। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, এপ্রিল ১ তারিখে ১ লক্ষ টন ক্রুড তেলের আমদানি জন্য নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NoA) জারি করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বলেন, “সোমবারের মধ্যে এলসি খোলার আশা রয়েছে। যদি ট্যাঙ্কার এপ্রিল ১৫-এর মধ্যে দেশে পৌঁছে, আমরা ডেডস্টক ব্যবহার করে গ্যাপ পূরণ করতে পারব।”
এছাড়া মন্ত্রণালয় ‘সরকারি ক্রয়’ কমিটি মার্চ ৩১ তারিখে মালয়েশিয়ার ‘আবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস’ থেকে ১ লক্ষ টন ক্রুড তেল আনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সৌদি আরব থেকে আরও ১ লক্ষ টন তেল ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশে আসার পথে রয়েছে।
যদিও রিফাইনারির পরিস্থিতি গুরুতর, কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে দেশের জ্বালানি সংকটের কোনো তাত্ক্ষণিক হুমকি নেই। তেল বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “ইআরএল দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ যোগান দেয়। তাই আমরা পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়িয়ে রিফাইনারির উপর নির্ভরতা কমিয়েছি।”

চট্টগ্রাম বন্দর অনুযায়ী আজ দুইটি জাহাজে ৬০,০০০ টন পরিশোধিত তেল পৌঁছানোর কথা। এছাড়া এই সপ্তাহের শেষে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে আরও ৬০,০০০ টন তেল আসবে। ভারতের পাইপলাইন ও জাহাজ, চীন ও সিঙ্গাপুর থেকে নির্ধারিত সরবরাহ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















