০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
দুবাইয়ে সোনার দামে পতন, যুদ্ধবিরতির আশা কমাল নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা ঝিনাইদহে চাচা-ভাতিজা বিদ্যুৎপৃষ্ঠে মৃত্যু জ্বালানি সংকটে সড়কে যান চলাচল কমেছে, ভাড়া বাড়ছে ক্রুড তেলের সংকট: এপ্রিল ১০-এর পর বাংলাদেশের একমাত্র রিফাইনারি  বন্ধ হয়ে যেতে পারে  রংপুর মেডিকেল কলেজে আইসিইউ সংকট: রোগীরা জীবনঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষবারের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান  ইসরায়েলের শহরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বহু আহত ইউএইতে হামলার ঘটনায় ঘানার নাগরিক আহত, টেলিকম কোম্পানি ভবন ড্রোন হামলার লক্ষ্য ইসরায়েলি হামলা তেহরান লক্ষ্য করলো ওপেক প্লাসের সতর্কবার্তা: তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে যাচ্ছে, থাকছে আওয়ামী করলে শাস্তির বিধান

অধ্যাদেশ থেকে আইনে: আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার

বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে আইন হিসেবে পাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যায়। এই অধ্যাদেশে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপি জানিয়েছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। সরকারের গঠনের পর তারা অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে নির্বাহী আদেশ কার্যকর থাকায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইনে রূপান্তরিত হলে দলটির রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আরও বাধা তৈরি হবে।

অধ্যাদেশ যাচাই ও সুপারিশ

১৩৩ নং অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে, ১৩ মার্চ উত্থাপিত হয়। গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা হারায়।

গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরিবর্তন ছাড়া আইনে রূপান্তর করার সুপারিশ করেছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে উত্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ এখন উত্থাপন না করার এবং চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগে গণসংযোগ, বিএনপিতে 'সক্রিয় হওয়ার' বার্তা | প্রথম আলো

সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশের প্রভাব

২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই আইনে ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

গত বছর ৯ মে এনসিপি নেতারা তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য দল এতে যোগ দেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থা

১১ মে রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নির্বাহী আদেশে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

প্রত্যক্ষ নিষেধাজ্ঞা

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী দল মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে না, গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশও সীমিত থাকবে।

আইনের শাস্তি

আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অধ্যাদেশে শাস্তির বিধান না থাকায় এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও কোনো শাস্তি আরোপ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ পাস হচ্ছে সংসদে

সংসদের সুপারিশ ও সরকারের মতামত

মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিশেষ কমিটিকে মতামত দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ পাসের সুপারিশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে শাস্তির বিধান নেই, সাজার বিধান যোগ করা যেতে পারে।’ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আইনের ১৬ ধারায় থাকা শাস্তি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য প্রযোজ্য হবে।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে দলীয়ভাবে মন্তব্য করতে চায় না। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান বলেন, যা করার জনগণই করবে। দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়; অতীতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে আওয়ামী লীগ। অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রতিবাদও করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাইয়ে সোনার দামে পতন, যুদ্ধবিরতির আশা কমাল নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে যাচ্ছে, থাকছে আওয়ামী করলে শাস্তির বিধান

০৫:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

অধ্যাদেশ থেকে আইনে: আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার

বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে আইন হিসেবে পাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যায়। এই অধ্যাদেশে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপি জানিয়েছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। সরকারের গঠনের পর তারা অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে নির্বাহী আদেশ কার্যকর থাকায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইনে রূপান্তরিত হলে দলটির রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আরও বাধা তৈরি হবে।

অধ্যাদেশ যাচাই ও সুপারিশ

১৩৩ নং অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে, ১৩ মার্চ উত্থাপিত হয়। গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা হারায়।

গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরিবর্তন ছাড়া আইনে রূপান্তর করার সুপারিশ করেছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে উত্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ এখন উত্থাপন না করার এবং চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগে গণসংযোগ, বিএনপিতে 'সক্রিয় হওয়ার' বার্তা | প্রথম আলো

সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশের প্রভাব

২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই আইনে ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

গত বছর ৯ মে এনসিপি নেতারা তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য দল এতে যোগ দেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থা

১১ মে রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নির্বাহী আদেশে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

প্রত্যক্ষ নিষেধাজ্ঞা

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী দল মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে না, গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশও সীমিত থাকবে।

আইনের শাস্তি

আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অধ্যাদেশে শাস্তির বিধান না থাকায় এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও কোনো শাস্তি আরোপ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ পাস হচ্ছে সংসদে

সংসদের সুপারিশ ও সরকারের মতামত

মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিশেষ কমিটিকে মতামত দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ পাসের সুপারিশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে শাস্তির বিধান নেই, সাজার বিধান যোগ করা যেতে পারে।’ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আইনের ১৬ ধারায় থাকা শাস্তি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য প্রযোজ্য হবে।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে দলীয়ভাবে মন্তব্য করতে চায় না। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান বলেন, যা করার জনগণই করবে। দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়; অতীতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে আওয়ামী লীগ। অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রতিবাদও করা হবে।