জাপানের কিউশু অঞ্চলের কুমামোতো প্রিফেকচারে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের শিনদো স্কেলে সর্বোচ্চ শিনদো ৭ রেকর্ড করা হয়েছে, যা অত্যন্ত বিরল এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে। ভূমিকম্পের প্রায় ৩০ মিনিট পর একই এলাকায় আরও একটি আফটারশক অনুভূত হয়, যার তীব্রতা ছিল দুর্বল ৫। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আরও শক্তিশালী কম্পনের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের সম্প্রচারিত ভিডিওতে উপকেন্দ্রের কাছাকাছি একাধিক ভবন ধসে পড়তে দেখা যায়। উকি শহরের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ঘটনায় তারা অসংখ্য জরুরি ফোনকল পেয়েছে।
এছাড়া ইয়াতসুশিরো শহরের কিউশু এক্সপ্রেসওয়ের একাধিক ওভারপাসে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। একই শহরে একটি সেতুর পথচারী অংশ ভেঙে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। কাশিমা শহরের একটি এইওন শপিংমলের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে বলে দেখা গেছে। সেখানে বিস্ফোরণেরও কিছু অপ্রমাণিত খবর রয়েছে।
সরকার ও আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তা
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাসকারীদের একই মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তারাও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহ, বিশেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিন, শিনদো ৭ মাত্রার ভূমিকম্প পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ অগভীর ভূমিকম্পের পর সাধারণত একাধিক আফটারশক দেখা দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি দুটি ফল্ট বিপরীত দিকে অনুভূমিকভাবে সরে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি ২০১৬ সালের কুমামোতো ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার
ভূমিকম্পের পর আরিয়াকে ও ইয়াতসুশিরো সাগর উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে উপকূলীয় এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
পারমাণবিক স্থাপনায় অস্বাভাবিকতা নেই
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, সেনদাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় অস্বাভাবিকতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জনজীবনে প্রভাব
কিউশু ইলেকট্রিক জানিয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচারের প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোম্পানিটি ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার স্পর্শ না করার এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমিকম্পের সময় দীর্ঘক্ষণ প্রবলভাবে কাঁপতে থাকে এলাকা। কুমামোতো স্টেশনের সামনে বিপুল মানুষ জড়ো হয় এবং বিভিন্ন সুবিধাজনক দোকানে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার হুড়োহুড়িও দেখা যায়।
২০১৬ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল নতুন কম্পন
বর্তমান ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল উকি শহরের কাছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এটি ২০২৪ সালের নোতো উপদ্বীপের ভূমিকম্পের পর প্রথম শিনদো ৭ মাত্রার কম্পন।
এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে কুমামোতোতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৭৮ জন নিহত এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গ তখন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার পুনর্নির্মাণ কাজ ২০৫২ সালের আগে শেষ হওয়ার কথা নয়।
জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
জাপানের কুমামোতোতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভবন ধস, আগুন ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর আরও বড় আফটারশকের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















