ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংসদে সংবর্ধনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। লোকসভায় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য গৌরব গগৈ অভিযোগ করেছেন, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনার দায়ে পদত্যাগ করা একজন মন্ত্রীকে এমনভাবে বরণ করা হয়েছে, যেন তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতে ফিরেছেন।
সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-এর সদস্যরা ধর্মেন্দ্র প্রধানকে করতালি ও সংবর্ধনার মাধ্যমে স্বাগত জানান। এর একদিন পর মঙ্গলবার লোকসভায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন গৌরব গগৈ।
প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থীদের মৃত্যু নিয়ে আক্রমণ
লোকসভায় বক্তব্যে গগৈ বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের দায়িত্বকালেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তাঁর ভাষায়, এমন একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করার পর সংসদে এসে যেভাবে সংবর্ধনা পেলেন, তা দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতে সীমান্ত থেকে ফিরেছেন।
তিনি দাবি করেন, সরকারের এই আচরণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও ক্ষোভকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং প্রকৃত জবাবদিহি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
নতুন আইন নিয়েও প্রশ্ন
সরকার যে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, ২০২৪ সালে প্রণীত আইন প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই একই ধরনের আরেকটি আইন সমস্যার মূল সমাধান করতে পারবে না।
গগৈ বলেন, যদি আগের আইন কার্যকর হতো, তাহলে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠত না। তাঁর দাবি, নতুন আইন সরকারের ব্যর্থতারই প্রতীক।
![]()
এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার প্রসঙ্গ
গৌরব গগৈ এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার তদন্ত নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখিয়া দীর্ঘ ১১ মাস পলাতক ছিলেন এবং সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে জামিন পান।
এ ছাড়া রঞ্জিত কুমার বরুয়া, অমিত কুমার সিং, পঙ্কজ কুমার ও রাকেশসহ আরও কয়েকজন অভিযুক্তও ২০২৫ সালে জামিন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
গগৈ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথম দিকে কোনো অনিয়মই ঘটেনি বলে দাবি করেছিলেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের অবস্থান ছিল যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি এবং পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। পরে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে পরিস্থিতি বদলায়।
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংসদে সংবর্ধনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস বিষয়টিকে সরকারের জবাবদিহির অভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেও এ বিষয়ে সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংসদে সংবর্ধনা দেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও নতুন আইন নিয়ে লোকসভায় সরব গৌরব গগৈ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















