যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির আওতায় পাম অয়েল রপ্তানিতে অব্যাহতি চেয়ে ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সমন্বয়কারী অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হারতার্তো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদনটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত পাম অয়েল (সিপিও) উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে জাকার্তা পাম অয়েলসহ কয়েকটি প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক পণ্যের ওপর শূন্য শুল্ক সুবিধাও চেয়েছে। তবে অন্য কোন পণ্যের জন্য এ আবেদন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নতুন মার্কিন শুল্কের প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন। অভিযোগ, কিছু দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রবেশ ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
২৪ জুলাই কার্যকর হওয়া এই নতুন শুল্কহার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে একই আইনের সেকশন ১২২-এর অধীনে ১৫০ দিনের জন্য আরোপিত বৈশ্বিক ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হয় ওই দিনই।
ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান তুলনামূলক অনুকূলে
এয়ারলাঙ্গা হারতার্তো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়নে ইন্দোনেশিয়া তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছে। সে কারণে দেশটি ‘কমপ্লায়েন্ট’ বা অনুগত দেশের তালিকায় রয়েছে এবং ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়েছে।
বর্তমানে মোট ১৭টি দেশ এই শ্রেণিতে রয়েছে। এ তালিকায় ভারত, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, যেসব দেশকে ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাদের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কমপ্লায়েন্ট দেশগুলো এমন নীতি অনুসরণ করছে, যার মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও হংকংসহ কয়েকটি দেশকে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে নন-কমপ্লায়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও একটি তদন্তের মুখে ইন্দোনেশিয়া
শুধু শ্রমসংক্রান্ত তদন্তই নয়, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে ইন্দোনেশিয়াসহ ১৬টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে পৃথক সেকশন ৩০১ তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এয়ারলাঙ্গা জানান, এ তদন্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্দোনেশিয়া তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব জমা দিয়েছে। তবে সেই জবাবের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার এবং তেল-গ্যাস বহির্ভূত খাতে দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের উৎস। পোশাক, পাম অয়েল এবং পাম অয়েলজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের জন্য এই বাজার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনার মহাপরিচালক জনি মার্থা বলেছেন, বিকল্প বাজার তৈরি করতে সময় লাগবে। তিনি জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’-এর সামগ্রিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।
তার ভাষ্য, ইন্দোনেশিয়ার কোনো পণ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেই। ফলে মার্কিন পণ্যের জন্য কিছুটা সহজ প্রবেশাধিকার দিলেও তা আমদানির বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েলে মার্কিন শুল্ক থেকে অব্যাহতির আবেদন; চলমান তদন্তের মধ্যে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় জাকার্তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















