ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বোম্বের ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর কথিত আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা-মা। নিহত শিক্ষার্থীর মা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে তার ছেলে পরিবারকে জানিয়েছিল, সে ‘নির্যাতন’ ও ‘জাতিগত বৈষম্যের’ শিকার হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।
মা-বাবার অভিযোগ
মঙ্গলবার নিহত শিক্ষার্থীর মা বলেন, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি প্রশাসন ও ভারতের সংবিধানের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। তার বিশ্বাস, তার ছেলে ন্যায়বিচার পাবে।
নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, যেদিন তার ছেলেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, সেদিনই পরীক্ষায় নকল করার যে দাবি সামনে আসে, তা মূল ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তিনি বলেন, তার ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল।
শিক্ষার্থীর পরিবারের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ঘটনাটি ঘিরে আইআইটি বোম্বের ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
ক্যাম্পাসে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
ঘটনার পর মুম্বাইয়ের পাওয়াইয়ে অবস্থিত আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাসের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য।
নিহত শিক্ষার্থী ছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বৈষম্য এবং মানসিক চাপের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি।
তদন্তের দিকেই নজর
শিক্ষার্থীর পরিবারের বক্তব্য এবং মৃত্যুর আগে তিনি কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষায় নকলের অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার বিষয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার কথা জানানো হলেও তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















