০৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায় ভিয়েতনামের ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার খাতে ঢুকছে মার্কিন লিথিয়াম কোম্পানি ইমরান খানের বোনের আটকাদেশ নিয়ে আদালতে যুক্তি শুনানি সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পেশোয়ারে বললেন মুনির রাখাইনের চার শহরে বিমান হামলা, ব্যর্থ জান্তার অভিযান

সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পেশোয়ারে বললেন মুনির

পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মঙ্গলবার পেশোয়ার কোর সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে সন্ত্রাস দমনে সামরিক বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী তিনি বলেন, “জাতির অটুট সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাস দমন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

পরিদর্শনকালে মুনিরকে খাইবার পাখতুনখোয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করা হয়, যার মধ্যে ছিল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং মোতায়েনকৃত বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতির বিস্তারিত। তিনি সেনাদের উচ্চ মনোবল, প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে দেশ রক্ষায় তাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতাকে স্বীকৃতি দেন এবং সতর্কতা ও কার্যক্রমের মান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মুনির শহীদ স্মৃতিসৌধ ইয়াদগার-ই-শুহাদায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় থাকবে বলে মন্তব্য করেন।

এই পরিদর্শন এমন এক সময়ে হলো, যখন কোহাটে এক বড় সন্ত্রাসী হামলায় ২৩ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এর জবাবে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ২৮ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে।

সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই কঠোর অবস্থান দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একদিকে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতে ইসলামির আন্দোলন, অন্যদিকে সীমান্তে জঙ্গি তৎপরতা, উভয় ফ্রন্টেই সরকারকে একযোগে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সীমান্তের ওপারে আফগানিস্তান-কেন্দ্রিক জঙ্গি তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করে, যার আঁচ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী তথ্য বিনিময় ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা যত জোরদার হবে, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নিরাপত্তা ততই সংহত হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

কোহাট হামলার পর সামরিক বাহিনীর এই কড়া অবস্থান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, বিরোধী দলগুলোর একাংশ প্রশ্ন তুলছে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতা নিয়ে, আবার সরকারপক্ষ সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে। সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই লড়াই তাই সামরিক প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐক্যেরও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার হামলার মুখেও সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই অবস্থান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সেনাপ্রধান নিজেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত

সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পেশোয়ারে বললেন মুনির

০৭:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মঙ্গলবার পেশোয়ার কোর সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে সন্ত্রাস দমনে সামরিক বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী তিনি বলেন, “জাতির অটুট সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাস দমন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

পরিদর্শনকালে মুনিরকে খাইবার পাখতুনখোয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করা হয়, যার মধ্যে ছিল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং মোতায়েনকৃত বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতির বিস্তারিত। তিনি সেনাদের উচ্চ মনোবল, প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে দেশ রক্ষায় তাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতাকে স্বীকৃতি দেন এবং সতর্কতা ও কার্যক্রমের মান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মুনির শহীদ স্মৃতিসৌধ ইয়াদগার-ই-শুহাদায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় থাকবে বলে মন্তব্য করেন।

এই পরিদর্শন এমন এক সময়ে হলো, যখন কোহাটে এক বড় সন্ত্রাসী হামলায় ২৩ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এর জবাবে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ২৮ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে।

সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই কঠোর অবস্থান দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একদিকে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতে ইসলামির আন্দোলন, অন্যদিকে সীমান্তে জঙ্গি তৎপরতা, উভয় ফ্রন্টেই সরকারকে একযোগে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সীমান্তের ওপারে আফগানিস্তান-কেন্দ্রিক জঙ্গি তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করে, যার আঁচ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী তথ্য বিনিময় ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা যত জোরদার হবে, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নিরাপত্তা ততই সংহত হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

কোহাট হামলার পর সামরিক বাহিনীর এই কড়া অবস্থান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, বিরোধী দলগুলোর একাংশ প্রশ্ন তুলছে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতা নিয়ে, আবার সরকারপক্ষ সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে। সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই লড়াই তাই সামরিক প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐক্যেরও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার হামলার মুখেও সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই অবস্থান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সেনাপ্রধান নিজেই।