০৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায় ভিয়েতনামের ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার খাতে ঢুকছে মার্কিন লিথিয়াম কোম্পানি ইমরান খানের বোনের আটকাদেশ নিয়ে আদালতে যুক্তি শুনানি সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পেশোয়ারে বললেন মুনির রাখাইনের চার শহরে বিমান হামলা, ব্যর্থ জান্তার অভিযান

রাখাইনের চার শহরে বিমান হামলা, ব্যর্থ জান্তার অভিযান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পোন্নাগিয়ুন, পাউকতাও, গোয়া ও মিনবিয়া, এই চার শহরে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে আরাকান আর্মির দখলে যাওয়া এই শহরগুলো রাজধানী সিত্তওয়ে থেকে ২০ থেকে ৪০০ মাইল দূরত্বে অবস্থিত।

হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন, পোন্নাগিয়ুনের কালাচাউং গ্রামে একজন, পাউকতাওয়ের তাউংপু গ্রামে একজন নিহত ও একজন আহত, আর গোয়াতে দুজন আহত। এর একদিন আগেই রাথেডাউং শহরে গোলাবর্ষণে আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।

আগস্টের মাঝামাঝি এক হাজারের বেশি জান্তা সেনা অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে পৌঁছানোর পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে শুরু হয় “অপারেশন ৪৯২৬”। তবে সূত্র বলছে এই পাল্টা অভিযান ব্যর্থ হয়ে সেনারা সিত্তওয়ে শহরে পিছু হটেছে। এক আটক সেনার কথিত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পোন্নাগিয়ুন অভিযানে সেনা কর্মকর্তারা শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জান্তার কাছে পোন্নাগিয়ুন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে প্রবেশের প্রধান পথ। বর্তমানে আরাকান রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে, পাশাপাশি প্রতিবেশী এলাকাতেও তাদের প্রভাব বিস্তৃত।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে এই সংঘাতের জেরে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, যা এই রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা ও স্থল সংঘাতকে বাংলাদেশের জন্য নিছক প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা ও শরণার্থী নীতির প্রশ্ন করে তুলেছে। কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ইতিমধ্যেই সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া জনসংখ্যার চাপ নতুন করে বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও রাখাইনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা থামছে না, বরং জান্তার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক জনগণের ওপর প্রতিহিংসামূলক হামলার আশঙ্কাই বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বারবার এই রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা চালানোর ঘটনা প্রমাণ করছে, স্থল অভিযানে ব্যর্থতার পরও আকাশপথে সামরিক চাপ বজায় রাখার কৌশল থেকে জান্তা সরে আসছে না।

স্থানীয় ত্রাণকর্মীরা বলছেন, লড়াই যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই সিত্তওয়ে ও আশপাশের এলাকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা নতুন করে অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তপারের বাস্তুচ্যুতি বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। বাংলাদেশ সরকার বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাখাইনে টেকসই শান্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি তুলেছে, তবে রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা ও চলমান স্থল সংঘাত সেই লক্ষ্যকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত

রাখাইনের চার শহরে বিমান হামলা, ব্যর্থ জান্তার অভিযান

০৭:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পোন্নাগিয়ুন, পাউকতাও, গোয়া ও মিনবিয়া, এই চার শহরে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে আরাকান আর্মির দখলে যাওয়া এই শহরগুলো রাজধানী সিত্তওয়ে থেকে ২০ থেকে ৪০০ মাইল দূরত্বে অবস্থিত।

হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন, পোন্নাগিয়ুনের কালাচাউং গ্রামে একজন, পাউকতাওয়ের তাউংপু গ্রামে একজন নিহত ও একজন আহত, আর গোয়াতে দুজন আহত। এর একদিন আগেই রাথেডাউং শহরে গোলাবর্ষণে আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।

আগস্টের মাঝামাঝি এক হাজারের বেশি জান্তা সেনা অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে পৌঁছানোর পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে শুরু হয় “অপারেশন ৪৯২৬”। তবে সূত্র বলছে এই পাল্টা অভিযান ব্যর্থ হয়ে সেনারা সিত্তওয়ে শহরে পিছু হটেছে। এক আটক সেনার কথিত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পোন্নাগিয়ুন অভিযানে সেনা কর্মকর্তারা শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জান্তার কাছে পোন্নাগিয়ুন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে প্রবেশের প্রধান পথ। বর্তমানে আরাকান রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে, পাশাপাশি প্রতিবেশী এলাকাতেও তাদের প্রভাব বিস্তৃত।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে এই সংঘাতের জেরে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, যা এই রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা ও স্থল সংঘাতকে বাংলাদেশের জন্য নিছক প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা ও শরণার্থী নীতির প্রশ্ন করে তুলেছে। কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ইতিমধ্যেই সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া জনসংখ্যার চাপ নতুন করে বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও রাখাইনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা থামছে না, বরং জান্তার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক জনগণের ওপর প্রতিহিংসামূলক হামলার আশঙ্কাই বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বারবার এই রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা চালানোর ঘটনা প্রমাণ করছে, স্থল অভিযানে ব্যর্থতার পরও আকাশপথে সামরিক চাপ বজায় রাখার কৌশল থেকে জান্তা সরে আসছে না।

স্থানীয় ত্রাণকর্মীরা বলছেন, লড়াই যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই সিত্তওয়ে ও আশপাশের এলাকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা নতুন করে অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তপারের বাস্তুচ্যুতি বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। বাংলাদেশ সরকার বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাখাইনে টেকসই শান্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি তুলেছে, তবে রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা ও চলমান স্থল সংঘাত সেই লক্ষ্যকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।