পশ্চিম তুরস্কের মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু শহরে মঙ্গলবার সকালে এক স্কুলের বাইরে গুলি চালিয়েছে এক কিশোর, যাতে আহত হয়েছেন ১১ জন। ঘটনাস্থলেই পুলিশ কিশোরটিকে গ্রেপ্তার করে, আর তদন্তের স্বার্থে তার বাবা-মা ও দাদাকেও আটক করা হয়েছে।
আহত ১১ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে, যদিও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় সকাল আটটার দিকে, রিসোর্ট শহর ইজমিরের কাছেই অবস্থিত এই শহরে।
তুরস্কে স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল, তবে এবারের ঘটনাটি ঘটল এপ্রিলে পরপর দুটি স্কুল-গুলির ঘটনার মাত্র পাঁচ মাস পর, যা তখন ব্যাপক জনরোষ তৈরি করেছিল। এপ্রিলের ঘটনাগুলোর একটিতে কাহরামানমারাশে এক শিক্ষক ও নয়জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিলেন, আর অন্যটিতে সানলিউরফায় ১৬ জন আহত হওয়ার পর হামলাকারী আত্মহত্যা করে।
এপ্রিলের ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান একজন শিক্ষা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন এবং কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকার নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে, যার মধ্যে ছিল ৩১ হাজার স্কুল নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলে পুলিশ নিয়োগ এবং নিয়মিত টহল ব্যবস্থা।
এই তুরস্কে স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনা দেখাচ্ছে, এত সব ব্যবস্থার পরও স্কুল সহিংসতা পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি, যা তুরস্কের শিক্ষা ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটার পেছনে অস্ত্র প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি কিশোর বয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার অপ্রতুলতাও বড় কারণ। স্কুল নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশ মোতায়েনের মতো বাহ্যিক ব্যবস্থা যতটা দৃশ্যমান, কিশোরদের মানসিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ততটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে না বলেই বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা মাঝেমধ্যে সামনে এসেছে, ফলে তুরস্কের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কিশোর বয়সে অস্ত্রের প্রবেশাধিকার ঠেকাতে পরিবার ও বিদ্যালয় উভয় পর্যায়ে নজরদারির প্রশ্নটিও এই ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে। বছরে দুইবার এমন তুরস্কে স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটায় দেশটির নীতিনির্ধারকদের ওপর দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের চাপ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















