ইন্দোনেশিয়ায় গত কয়েক বছরে দেশীয় সয়াবিন উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২০২১ সাল থেকে দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৮.১৪ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়েছে। ফলে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে নতুন ভর্তুকি কর্মসূচিসহ একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটির সরকার।
সোমবার এক সেমিনারে ইন্দোনেশিয়ার সমন্বয়কারী খাদ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাদ্য ও কৃষি-ব্যবসা সমন্বয় বিষয়ক উপ-সমন্বয়কারী উইদিয়াস্তুতি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশীয় সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার ২২৩ টন। অথচ জাতীয় গড় চাহিদা বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন।
তিনি বলেন, এই ঘাটতির কারণে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করতে হচ্ছে।
উৎপাদন আরও কমেছে
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় মোট সয়াবিন উৎপাদন ছিল ৭৮ হাজার ৬৯৩ টন। একই সময়ে আগের বছরের তুলনায় ফসল কাটার আওতাধীন জমির পরিমাণ ১১.৬৮ শতাংশ কমে যায়।
চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৬৯১ টন, যা উৎপাদন পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে উইদিয়াস্তুতির ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সয়াবিন চাষে গড় উৎপাদন প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১.৪ শতাংশ ছিল। সুমাত্রা, জাভা, বালি, নুসা তেঙ্গারা, কালিমানতান, সুলাওয়েসি, মালুকু ও পাপুয়ায় এ চাষাবাদ পরিচালিত হচ্ছে।
চাহিদার বড় অংশ খাদ্যশিল্পে
ইন্দোনেশিয়ায় সয়াবিনের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী হলো হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং (হোরেকা) খাত। দেশটির মোট সয়াবিন ব্যবহারের প্রায় ৯৫.৬৮ শতাংশ এই খাতে ব্যবহৃত হয়। টোফু, টেম্পে এবং সয়া সস তৈরিতে সয়াবিন প্রধান কাঁচামাল হওয়ায় এ খাতের ওপর চাহিদার বড় অংশ নির্ভরশীল।

স্বয়ংসম্পূর্ণতার পরিকল্পনা
দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে সয়াবিনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার বেশ কয়েকটি কৌশল হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন জমি সংগ্রহ, উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং কৃষিপণ্যের মূল্যসংযোজন কার্যক্রম জোরদার করা।
সরকার একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য বাজারের নিশ্চয়তা তৈরি এবং আমদানিকৃত সয়াবিনের প্রতিযোগিতামূলক চাপ থেকে দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে।
আমদানি ব্যয় মোকাবিলায় ভর্তুকি
সরকারের সর্বশেষ উদ্যোগগুলোর একটি হলো সয়াবিন ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করা। এর লক্ষ্য, রুপিয়াহর মূল্যহ্রাসের কারণে আমদানিকৃত সয়াবিনের দাম বৃদ্ধি থেকে দেশীয় বাজারকে সুরক্ষা দেওয়া।
সমন্বয়কারী খাদ্যমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান জুন মাসে জানান, রুপিয়াহর অবমূল্যায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে আমদানিকৃত সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এতে দেশটির টোফু ও টেম্পে উৎপাদকরা চাপের মুখে পড়েছেন।
প্রথম ধাপে ২ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিনের জন্য ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেনা প্রতি কেজি সয়াবিনে ২ হাজার রুপিয়াহ ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর জন্য সরকারের প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি রুপিয়াহ (২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















