যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের চতুর্থ তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মাটিতে আর্দ্রতা কমে গেছে। শুকনো গাছপালা ও ঘাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
ইংল্যান্ডে বৃষ্টির ঘাটতি চরমে
দীর্ঘ সময়ের বৃষ্টিহীনতার কারণে লাখো পরিবারের ওপর বাগানে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। চলতি সপ্তাহান্তে কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও মধ্য, দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের সবচেয়ে শুষ্ক এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইংল্যান্ডে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি রেকর্ড শুরুর পর সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাতের ঘটনাগুলোর একটি। এর আগে ১৮৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। ১৯২৫ সালের জুন মাসের বৃষ্টিপাতও ছিল ৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার।
ওয়েলসেও ভয়াবহ শুষ্কতা
ওয়েলসের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। দেশটির কয়েকটি এলাকায় গত সপ্তাহেই খরা ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাই মাসে ওয়েলসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা রেকর্ড শুরুর পর যেকোনো মাসের তুলনায় চতুর্থ সর্বনিম্ন।
নতুন করে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি আরও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শুকনো মাটি ও কমে যাওয়া মাটির আর্দ্রতা কৃষি, উদ্ভিদ এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
৪০ দিন বৃষ্টিহীন
দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের সারের উইসলি এলাকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ২৭ জুলাই পর্যন্ত সেখানে টানা ৪০ দিন কোনো বৃষ্টি হয়নি। ফলে ওই অঞ্চলের মাটি ও উদ্ভিদে পানির ঘাটতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে
বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে যাওয়া গাছপালা আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি এলাকায় দাবানল দেখা দিয়েছে। সামনে আরও গরম আবহাওয়া তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সপ্তাহের শেষ দিকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বড় ধরনের স্বস্তি দেওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির পূর্বাভাস এখনো নেই। ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের শুষ্ক এলাকাগুলোতে তাপপ্রবাহ, পানির সংকট ও দাবানলের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে চতুর্থ তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতিতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বাড়ছে খরা, পানির সংকট ও দাবানলের আশঙ্কা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















