০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহে চাচা-ভাতিজা বিদ্যুৎপৃষ্ঠে মৃত্যু জ্বালানি সংকটে সড়কে যান চলাচল কমেছে, ভাড়া বাড়ছে ক্রুড তেলের সংকট: এপ্রিল ১০-এর পর বাংলাদেশের একমাত্র রিফাইনারি  বন্ধ হয়ে যেতে পারে  রংপুর মেডিকেল কলেজে আইসিইউ সংকট: রোগীরা জীবনঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষবারের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান  ইসরায়েলের শহরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বহু আহত ইউএইতে হামলার ঘটনায় ঘানার নাগরিক আহত, টেলিকম কোম্পানি ভবন ড্রোন হামলার লক্ষ্য ইসরায়েলি হামলা তেহরান লক্ষ্য করলো ওপেক প্লাসের সতর্কবার্তা: তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে লেবাননের রাজধানীতে হাসপাতালে পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামলায় অন্তত ৪ নিহত

শিশুদের কান্না আর মা-বাবার আনন্দ: গাজা ফেরত পেল ১১ প্রিম্যাচিউর শিশু

গাজা যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেওয়া ১১ জন প্রিম্যাচিউর শিশু দুই বছরের পর স্বজনদের কাছে ফিরেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে গাজার হাসপাতাল আক্রমণের পর এই শিশুগুলো নিরাপদে মিসর পাঠানো হয়েছিল। সোমবার, দীর্ঘ কষ্টকর বছর পার হয়ে তারা গাজার রাফা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত আসে।

প্রেমময় পুনর্মিলন
সন্দোস আল-কুর্দের কোলের মাঝে তার কন্যা বিসান ফিরে আসে, এবং মা ও শিশুর চোখে আনন্দের জল ঝরে। সন্দোস জানিয়েছেন, “বিসান আমাকে দেখে সরাসরি আমার কোলের কাছে এলো। যেন জানতো আমি তার মা।” ১১ শিশুদের মধ্যে সবাই প্রিম্যাচিউর জন্ম হয়েছিল এবং যুদ্ধের মধ্যে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মিসরে চিকিৎসা পেয়েছিল।

Evacuated from Gaza as newborns, a group of Palestinian toddlers returns to  an uncertain future

মানবিক সঙ্কটের দিকনির্দেশ
শিশুরা গাজায় ফিরে আসলেও পরিবেশ যুদ্ধের ক্ষত চিহ্নিত। পুনর্গঠন কার্যক্রম এখনও স্থগিত। তারা নাসের হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে চোখে-মুখে কেঁদে থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

অতীতের কষ্টকর অধ্যায়
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ইসরায়েলি সেনারা গাজার আল-শিফা হাসপাতালে আক্রমণ চালায়। হাসপাতাল ব্যবহারের জন্য হামাসকে অভিযুক্ত করা হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটি অস্বীকার করেন। এই আক্রমণে বহু প্রিম্যাচিউর নবজাতক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাসপাতালটিকে “মৃত্যুক্ষেত্র” আখ্যা দিয়েছিল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পাঁচ শিশু মারা গেছে।

Israeli forces storm Gaza’s al-Shifa Hospital

চিকিৎসা ও প্রত্যাবর্তন
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নবজাতক শিশুরা নিরাপদে মিসরে প্রেরণ করে। ৩১ শিশুকে রাফা শহরে নিয়ে আসা হয় এবং পরের দিনে ২৮ শিশুকে চিকিৎসার জন্য মিসরে পাঠানো হয়। বর্তমানে ১১ শিশু স্বাস্থ্যকর অবস্থায় গাজায় ফিরেছে, তবে কিছু শিশু চোখের সমস্যা ও অন্যান্য জটিলতায় ভুগছে।

যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ
গাজার চিকিৎসা ও নাগরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাজার ৮০ শতাংশের বেশি কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ২০২৩ সালের হামাস পরিচালিত হামলা ও পরবর্তী যুদ্ধে প্রায় ৭০,০০০ জন প্যালেস্টাইন নিহত হয়েছে।

শিশু ও অভিভাবক পুনর্মিলনের গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। তারা যুদ্ধের পর প্রাথমিক চিকিৎসা ও সুরক্ষায় ফিরে এসেছে, কিন্তু ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের নতুন সূচনা ঘটেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে চাচা-ভাতিজা বিদ্যুৎপৃষ্ঠে মৃত্যু

শিশুদের কান্না আর মা-বাবার আনন্দ: গাজা ফেরত পেল ১১ প্রিম্যাচিউর শিশু

০৫:১৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

গাজা যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেওয়া ১১ জন প্রিম্যাচিউর শিশু দুই বছরের পর স্বজনদের কাছে ফিরেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে গাজার হাসপাতাল আক্রমণের পর এই শিশুগুলো নিরাপদে মিসর পাঠানো হয়েছিল। সোমবার, দীর্ঘ কষ্টকর বছর পার হয়ে তারা গাজার রাফা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত আসে।

প্রেমময় পুনর্মিলন
সন্দোস আল-কুর্দের কোলের মাঝে তার কন্যা বিসান ফিরে আসে, এবং মা ও শিশুর চোখে আনন্দের জল ঝরে। সন্দোস জানিয়েছেন, “বিসান আমাকে দেখে সরাসরি আমার কোলের কাছে এলো। যেন জানতো আমি তার মা।” ১১ শিশুদের মধ্যে সবাই প্রিম্যাচিউর জন্ম হয়েছিল এবং যুদ্ধের মধ্যে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মিসরে চিকিৎসা পেয়েছিল।

Evacuated from Gaza as newborns, a group of Palestinian toddlers returns to  an uncertain future

মানবিক সঙ্কটের দিকনির্দেশ
শিশুরা গাজায় ফিরে আসলেও পরিবেশ যুদ্ধের ক্ষত চিহ্নিত। পুনর্গঠন কার্যক্রম এখনও স্থগিত। তারা নাসের হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে চোখে-মুখে কেঁদে থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

অতীতের কষ্টকর অধ্যায়
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ইসরায়েলি সেনারা গাজার আল-শিফা হাসপাতালে আক্রমণ চালায়। হাসপাতাল ব্যবহারের জন্য হামাসকে অভিযুক্ত করা হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটি অস্বীকার করেন। এই আক্রমণে বহু প্রিম্যাচিউর নবজাতক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাসপাতালটিকে “মৃত্যুক্ষেত্র” আখ্যা দিয়েছিল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পাঁচ শিশু মারা গেছে।

Israeli forces storm Gaza’s al-Shifa Hospital

চিকিৎসা ও প্রত্যাবর্তন
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নবজাতক শিশুরা নিরাপদে মিসরে প্রেরণ করে। ৩১ শিশুকে রাফা শহরে নিয়ে আসা হয় এবং পরের দিনে ২৮ শিশুকে চিকিৎসার জন্য মিসরে পাঠানো হয়। বর্তমানে ১১ শিশু স্বাস্থ্যকর অবস্থায় গাজায় ফিরেছে, তবে কিছু শিশু চোখের সমস্যা ও অন্যান্য জটিলতায় ভুগছে।

যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ
গাজার চিকিৎসা ও নাগরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাজার ৮০ শতাংশের বেশি কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ২০২৩ সালের হামাস পরিচালিত হামলা ও পরবর্তী যুদ্ধে প্রায় ৭০,০০০ জন প্যালেস্টাইন নিহত হয়েছে।

শিশু ও অভিভাবক পুনর্মিলনের গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। তারা যুদ্ধের পর প্রাথমিক চিকিৎসা ও সুরক্ষায় ফিরে এসেছে, কিন্তু ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের নতুন সূচনা ঘটেছে।