নেপালের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তরুণদের আন্দোলনের জেরে এবার দেশটির নেতৃত্বের শীর্ষে উঠে আসতে চলেছেন এক র্যাপার-রাজনীতিক। ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে গেছেন।
নির্বাচনে বিস্ময়কর জয়
গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৮২টি আসন জিতে তারা নিম্নকক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মাত্র চার বছর আগে গঠিত এই দলটি নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে নতুন এক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

তরুণদের আন্দোলন বদলে দিল রাজনীতি
নেপালের রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষুব্ধ তরুণরা রাস্তায় নেমে আসে। সেপ্টেম্বরের সেই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয় এবং বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা অলিকে পদত্যাগ করতে হয়।
সংগীত থেকে রাজনীতির মঞ্চে
বালেন্দ্র শাহ রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন জনপ্রিয় র্যাপ শিল্পী। প্রকৌশল পড়ার সময় থেকেই তিনি সংগীতচর্চা শুরু করেন। তার গানে উঠে আসত দারিদ্র্য, বৈষম্যসহ নেপালের সামাজিক বাস্তবতা। এই কারণে তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে এবং তিনি একসময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে পরিচিতি
২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহ শহরজুড়ে বড় ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান। তার এই উদ্যোগ প্রশংসা যেমন পেয়েছে, তেমনি সমালোচনাও হয়েছে। প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে সরাসরি ও কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি আলাদা পরিচিতি পান।
নতুন দিকের প্রতীক
বিশ্লেষকদের মতে, শাহের নেতৃত্বে নেপালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন ধারা আসতে পারে। তার আন্দোলন-সমর্থিত অবস্থান এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে থাকা ভাবমূর্তি তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















