ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় সোমবার বিকেলে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ডিওএসটি-ফিভলকস (DOST-PHIVOLCS) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) ভূমিকম্পটির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় ১৫ জুন ২০২৬ বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে প্রকাশিত এক পরামর্শে ডিওএসটি-ফিভলকস জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ৬.১৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ১২৬.৯৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এটি দাভাও ওরিয়েন্টাল প্রদেশের গভর্নর জেনেরোসো এলাকার প্রায় ১১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯৪ কিলোমিটার গভীরে অবস্থান করছিল।
ভূমিকম্পের অবস্থান ও গভীরতা
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.২ বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকায় এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১১২ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পটি গভীর সমুদ্র এলাকায় উৎপন্ন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সুনামির আশঙ্কা নেই
ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দাভাও ওরিয়েন্টালের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের কর্মকর্তা কাইজার ক্যাডিজ জানান, উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের অস্বাভাবিক আচরণ আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য হলো সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে সরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া, কারণ এমন ঘটনা সম্ভাব্য সুনামির পূর্বাভাস হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক বড় ভূমিকম্পের পর নতুন কম্পন
সর্বশেষ এই ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে আঘাত হানল, যখন কয়েক দিন আগেই মিন্দানাও অঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছিল।
গত ৮ জুনের সেই ভূমিকম্পে অন্তত ৬৫ জন নিহত হন। বহু ভবন ধসে পড়ে, বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দুর্যোগের পর এখনও অন্তত ৩৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নতুন ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















