ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সামনে প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে ইরানের নেতৃত্ব কে নেবে—এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা তার প্রশাসনের নেই। এমনকি তিনি বলেছেন, যাদের নেতৃত্বে আনার কথা ভাবা হয়েছিল তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে নিহত।
হোয়াইট হাউস মেমো
যুদ্ধের পর ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা
মঙ্গলবার সকালে ওভাল অফিসে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরানের ক্ষেত্রে তার কাছে সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনা কী হতে পারে।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি এত কিছু করার পরও এমন কেউ ক্ষমতায় আসে, যে আগের নেতার মতোই খারাপ। তার ভাষায়, আমরা এত কিছু করলাম, তারপর পাঁচ বছর পরে যদি দেখি ক্ষমতায় এমন একজনকে বসানো হয়েছে যে আগের চেয়েও ভালো নয়, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল।
তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে যুদ্ধের পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নেতৃত্বের সম্ভাব্য ব্যক্তিরা নিহত
সাংবাদিকরা যখন জানতে চান, তিনি কাকে ইরানের ভবিষ্যৎ শাসক হিসেবে দেখতে চান, তখন ট্রাম্প সরাসরি বলেন, যাদের আমরা ভাবছিলাম তাদের বেশিরভাগই এখন মৃত।
এরপর তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের সামনে আরেকটি নতুন দল রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারাও হয়তো নিহত হয়েছে। ফলে হয়তো তৃতীয় একটি নতুন দল সামনে আসবে। খুব শিগগিরই এমন অবস্থা হবে যে আমরা কাউকেই চিনতে পারব না।
এই মন্তব্য ওয়াশিংটনে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই যুদ্ধের স্পষ্ট কোনো শেষ লক্ষ্য বা পরিকল্পনা নেই।
কেন যুদ্ধ শুরু করলেন ট্রাম্প
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান শিগগিরই প্রতিবেশী দেশগুলো এবং ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই হামলা ঠেকাতেই তিনি আগে থেকেই আঘাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা এই উন্মাদ লোকদের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম। কিন্তু আমার ধারণা ছিল তারা হামলা চালাতে যাচ্ছে।
যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইসরায়েল কি তাকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তখন ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, বরং উল্টোটা হয়েছে—সম্ভবত আমিই ইসরায়েলকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছি।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে প্রাণহানি
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতে অন্তত ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শেয়ার ও বন্ডের বাজারে পতন হয়েছে, আর তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। কারণ ইরানের উৎপাদন স্থাপনা ও তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
প্রথমদিকে তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, কিছুদিন যদি তেলের দাম একটু বেশি থাকে, সমস্যা নেই। যুদ্ধ শেষ হলেই দাম কমে যাবে।
তবে বিকেলের দিকে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দ্রুত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যেন বিশ্বে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ বজায় থাকে।

যুদ্ধের পর নেতৃত্ব নিয়ে অস্পষ্টতা
ওভাল অফিসের বৈঠক শেষে প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্পের যুদ্ধ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, যুদ্ধ শেষ হলে প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশ ইরানের নেতৃত্ব কে নেবে।
তারা সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের দিকেই ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু ট্রাম্পের সেই বক্তব্যও প্রকৃত অর্থে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি।
এদিকে বৈঠক শেষে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস সাংবাদিকদের বলেন, তার বর্তমান উপলব্ধি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের ভবিষ্যৎ বেসামরিক নেতৃত্ব নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো কৌশল নেই।

প্রতিবেদন সহযোগিতা: জিম ট্যাঙ্কার্সলি
শওন ম্যাকক্রিশ দ্য টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক। তিনি ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















