রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য দেশবাসীকে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি লোডিং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু না হওয়ায় পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে, ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
জ্বালানি লোডিংয়ে বিলম্ব, মূল কারণ লাইসেন্স জট
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং শুরু করার প্রস্তুতি নিলেও নির্ধারিত সময়ে কমিশনিং লাইসেন্স না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা করছে, তাই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনোভাবেই লাইসেন্স দেওয়া হবে না।
বিদ্যুৎ উৎপাদন পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহ এবং বছরের শেষে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল। কিন্তু জ্বালানি লোডিং পিছিয়ে যাওয়ায় এই সময়সূচি এখন আর বাস্তবসম্মত থাকছে না।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপর চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হতে আরও দুই মাস লাগে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে মোট ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন হয়। ফলে এখন শুরু হলেও বিদ্যুৎ পেতে প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রস্তুতি শেষ, তবু অপেক্ষা অনুমোদনের
প্রকল্প কর্মকর্তারা দাবি করছেন, নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সব ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া কোনো ধাপে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে। এই কারণে কিছু বিলম্ব হলেও সেটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবতায় নতুন প্রশ্ন
রূপপুর প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরু হয় এবং এর বাজেট প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৮১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১ নম্বর ইউনিট কমিশনিংয়ের শেষ পর্যায়ে থাকলেও ২ নম্বর ইউনিটের কাজও ৭০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে চালুর কথা থাকলেও প্রকল্পটি ইতোমধ্যে তিন বছর পিছিয়েছে। পরে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নেওয়া হলেও বর্তমান বিলম্ব সেই লক্ষ্য অর্জন নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে
বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে প্রকল্পের সময়সূচি বারবার বদলাচ্ছে। ফলে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু কবে হবে—তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















