বাংলাদেশে টেলিকম সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মোবাইল অপারেটররা। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট দেখা দিলে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।
অপারেটরদের উদ্বেগ ও প্রেক্ষাপট
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ এই আহ্বান জানায়। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে টেলিকম খাতে কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করা হয়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার ফলে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা টেলিকম সেবার ধারাবাহিকতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকারি নির্দেশনা ও বাস্তব চিত্র
অপারেটরদের মতে, সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তার নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার পূর্ণ প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিরবচ্ছিন্ন টেলিকম সেবা বজায় রাখা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব
সাম্প্রতিক ঝড়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে এবং অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনে দীর্ঘ সময় লাগছে। বর্ষা মৌসুমে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা টেলিকম নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ঝুঁকি বাড়াবে।
জরুরি সহায়তা কাঠামোর দাবি
এই পরিস্থিতিতে অপারেটররা জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে। এতে মূল নেটওয়ার্ক স্থাপনাগুলোর জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, বেস ট্রান্সসিভার স্টেশনগুলোর জন্য জ্বালানির নিশ্চয়তা, রক্ষণাবেক্ষণ পরিবহনের জন্য আলাদা জ্বালানি বরাদ্দ, গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনাগুলোতে লোডশেডিং কমানো এবং ঝড়-দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
দেশব্যাপী টেলিকম অবকাঠামোর গুরুত্ব
বাংলাদেশের টেলিকম অবকাঠামোয় প্রায় ৪৫ হাজার টাওয়ার, বিভিন্ন ডাটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা দেশের প্রায় শতভাগ এলাকায় সেবা দিয়ে ১৮৫ মিলিয়ন মানুষের যোগাযোগ নিশ্চিত করছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা
রেডিও অ্যাকসেস সাইট, সুইচিং নোড, কোর নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম, ডাটা সেন্টার ও নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টারসহ প্রতিটি উপাদান ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এসব স্থাপনায় ডিজেল ও পেট্রোলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বাড়ে।
জ্বালানি সংকটে বাড়ছে ঝুঁকি
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে প্রায়ই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও দেশজুড়ে টেলিকম সেবা বন্ধ হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অপারেটরদের চূড়ান্ত আহ্বান
মোবাইল অপারেটররা সরকারের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে টেলিকম সেবা সচল রাখা যায় এবং দেশের মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















