ইকুয়েডরের সান মার্টিন অঞ্চলে সামরিক বাহিনী এক বড় অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করেছে একটি খামার, যা সরকারি দাবিতে ছিল মাদক চক্রের প্রশিক্ষণ শিবির। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, এটি ছিল একটি সাধারণ দুগ্ধ ও গবাদি পশুর খামার। অভিযানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তদন্তে উঠে এসেছে যে খামারটি কোনো মাদক চক্রের আস্তানা ছিল না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
অভিযানের ভিডিও ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, এটি ছিল মাদক পাচারকারীদের প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংসের মুহূর্ত। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, এটি দেখাচ্ছে যে, মার্কিন সেনা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা নেশা সামগ্রীর বোট ধ্বংসের পর এখন স্থলভিত্তিক মাদক সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করছে। তবে ইকুয়েডরের সামরিক ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনাদের সরাসরি কোনো হামলার অংশগ্রহণ ছিল না।

খামারের প্রকৃত অবস্থা ও স্থানীয়দের দাবি
খামারের মালিক মিগুয়েল জানিয়েছেন, এটি ছিল ৩৫০ একর জমির একটি নিয়মিত খামার, যেখানে দুধ ও মাংস উৎপাদিত হতো। চারজন শ্রমিক জানান, ৩ মার্চ হেলিকপ্টার দিয়ে সামরিক বাহিনী এসে খামারের বিভিন্ন শেডে আগুন লাগায় এবং চারজনকে নির্যাতন করে। স্থানীয়রা বলছেন, ৬ মার্চ আবার হেলিকপ্টার এসে ধ্বংসাবশেষে বিস্ফোরক ফেলে। খামারের মালিক মিগুয়েল এবং গ্রামবাসীরা স্পষ্টভাবে বলছেন, এখানে কোনো মাদক চক্রের প্রশিক্ষণ হয়নি।
মানবাধিকার ও সমালোচনা
ইকুয়েডরের মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, সামরিক বাহিনী সিভিলিয়ানদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। মেরিয়া এসপিনোসা, একজন মানবাধিকার আইনজীবী বলেন, “একজনও সরকারি কর্মকর্তা এসে যাচাই করেননি, যা ঘটেছে তা সত্য কিনা।” গ্রামবাসীরা বলছেন, এই হামলাটি সরকারের নেশা চক্র দমন প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

সান মার্টিনে জীবন ও সীমান্তের চ্যালেঞ্জ
সান মার্টিন গ্রামটি কোলোম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। স্থানীয়রা কাঠের বাড়িতে বসবাস করে এবং কফি ও কলা চাষ করে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা অস্ত্রধারী গোষ্ঠী এবং সামরিক বাহিনীর সাথে একটি নাজুক সহাবস্থান বজায় রেখেছে। কৃষকরা সেনাদের সন্দেহের মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে।
সামরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়
ইকুয়েডরের সরকার দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও সমর্থন পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন বিশেষ বাহিনী খামারের বোমাবর্ষণে সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি। অবসরপ্রাপ্ত ইকুয়েডরের ক্যালোনেল মারিও পাজমিনো বলেন, “যে বাড়ি বা খামার ধ্বংস করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। এটি আমাদের প্রোটোকল অনুযায়ী।”

খামার মালিকের শেষ কথা
মিগুয়েল বলেছেন, “এটা এক অযৌক্তিক ও অন্যায় ঘটেছে। বলা হচ্ছে ৫০ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তবে কোথায় তারা প্রশিক্ষণ নেবে? পুরোপুরি খোলা মাঠে? কোনো লজিক নেই।” তিনি নিজের খামারের দলিল ও আগের ছবি দেখিয়েছেন।
মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার আহ্বান
গ্রামবাসীরা এবং মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, সত্যটি প্রকাশ হওয়া জরুরি। তারা মনে করছেন, সরকার নেশা চক্র দমনকে সামনে রেখে বাস্তবিক সাধারণ গ্রামীণ জীবনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















