ডিজেল বিক্রিতে নতুন সরকারি বিধিনিষেধের কারণে হাসপাতাল, তথ্যপ্রযুক্তি ক্যাম্পাস, তথ্যভাণ্ডার কেন্দ্র এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বা চাহিদা বেড়ে গেলে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম চালিয়ে থাকে।
সরকার সম্প্রতি শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন একজন গ্রাহক বা একটি যানবাহনের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ লিটার ডিজেল কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের মতে, জ্বালানির সরবরাহ সংরক্ষণ এবং খুচরা গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি অন্য খাতে চলে যাওয়া ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে হাসপাতাল খাতে। বড় হাসপাতালগুলোতে একাধিক ডিজেল জেনারেটর থাকে, যা প্রয়োজনে পুরো ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। অস্ত্রোপচার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমে সামান্য বিদ্যুৎ ওঠানামাও রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর চালু রাখে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ঝুঁকিতে
তথ্যভাণ্ডার কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ডিজেলভিত্তিক ব্যাকআপ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। নতুন সীমাবদ্ধতা তাদের জ্বালানি সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

বাড়তে পারে পরিচালন ব্যয়
শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে অনেক সময় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তখন কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে আংশিকভাবে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। নতুন নিয়মের ফলে এই কৌশল ব্যাহত হলে পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
ব্যতিক্রম চায় গুরুত্বপূর্ণ খাত
হাসপাতাল, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, তথ্যভাণ্ডার কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য বিশেষ ছাড় বা স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মতে, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য ডিজেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখা জরুরি।
তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের আগে থেকেই বড় পরিসরের জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে, তারা তুলনামূলকভাবে কম সমস্যায় পড়তে পারে। অন্যদিকে যারা খুচরা পর্যায় থেকে নমনীয়ভাবে ডিজেল সংগ্রহ করত, তাদের দ্রুত নতুন সংগ্রহব্যবস্থা গড়ে তুলতে হতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতগুলোর জন্য এর বাস্তব প্রভাব নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















