চীনের এয়ারলাইন খাত এখন এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো জ্বালানি সারচার্জ বাড়ানোর কথা ভাবছে। তবে একই সঙ্গে যাত্রী চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
সারচার্জ বাড়ানোর প্রস্তুতি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই
জাতীয় নিয়ন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও অন্তত দুটি দেশীয় এয়ারলাইন ইতিমধ্যে সারচার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। বুধবার প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, কিছু সংস্থা ছয় গুণ পর্যন্ত সারচার্জ বাড়াতে চায়। যদিও এর আগের দিন আরেকটি এয়ারলাইন একই ধরনের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
জিয়ামেন এয়ারলাইন্স এবং চায়না ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ৮০০ কিলোমিটার বা তার কম দূরত্বের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের সারচার্জ ১০ ইউয়ান থেকে বাড়িয়ে ৬০ ইউয়ান করা হবে, যা রবিবার থেকে কার্যকর হতে পারে। ৮০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে এই চার্জ ২০ ইউয়ান থেকে বেড়ে ১২০ ইউয়ান হবে।
হঠাৎ ঘোষণা প্রত্যাহার
গুইঝো ভিত্তিক কালারফুল গুইঝো এয়ারলাইন্স মঙ্গলবার একই ধরনের ঘোষণা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে। জানা যায়, চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন এপ্রিল মাসের জ্বালানি মূল্য সংক্রান্ত তথ্য প্রত্যাহার করায় এই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।
এখনো পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেয়নি।
দাম বাড়ালে চাহিদা কমার আশঙ্কা
বিশ্লেষক লি হানমিং বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা খুব সতর্কভাবে এগোচ্ছে, কারণ বেশি দাম বাড়ালে যাত্রী চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে প্রতিটি টিকিটেই লোকসান গুনতে হবে। তাই জ্বালানি সরবরাহকারী, এয়ারলাইন এবং যাত্রী—সব পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে চীন অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জেট ফুয়েল রপ্তানি কমিয়েছে, যাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় থাকে।
ভ্রমণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ছুটির মৌসুম—চিং মিং উৎসব এবং মে দিবসের ছুটি—কে সামনে রেখে সারচার্জ বাড়ানো হলে ভ্রমণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যাত্রীরা হয়তো ছোট দূরত্বের ভ্রমণ বেছে নেবে বা ট্রেন ও গাড়ির মতো বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করবে।
এয়ারলাইন খরচের বড় অংশ জ্বালানি
জ্বালানি ব্যয় এয়ারলাইনগুলোর মোট পরিচালন খরচের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। চীনের তিন বড় রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন—এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স এবং চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে এটি মোট খরচের প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশ।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সারচার্জ ব্যবস্থায় সাধারণত দেরি হয় এবং এটি পুরোপুরি খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে পারে না।
বিকল্প পরিবহন বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি অতিরিক্ত হারে সারচার্জ বাড়ানো হয়, তাহলে যাত্রী চাহিদা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে চীনে উচ্চগতির রেল ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে ভালো বিকল্প হওয়ায় বিমান ভ্রমণের চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
অনিশ্চয়তায় অন্য এয়ারলাইনগুলো
শানডং এয়ারলাইন্স এবং শেনঝেন এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত তারা সারচার্জ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি। শানডং এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে এখনো কোনো নোটিশ আসেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















