বিশ্ব অর্থনীতির বড় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ সুদের হার মোকাবিলা করতে গিয়ে ব্রাজিলের আমদানিকারকেরা এখন নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে। চীন থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তারা স্থানীয় ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে সরাসরি চীনের রাষ্ট্রীয় ঋণ বীমা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে। এর ফলে ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ১৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছালেও তা ধরে রাখা সহজ হয়েছে।
উচ্চ সুদের চাপ, বিকল্প খুঁজছে আমদানিকারকেরা
ব্রাজিলে ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার এতটাই বেশি যে অনেক ক্ষেত্রে মাসে ২ শতাংশেরও বেশি, যা বছরে প্রায় ২৭ শতাংশের সমান। এই পরিস্থিতিতে মাঝারি আকারের আমদানিকারকেরা কার্যকর মূলধনের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি বিলম্বিত পরিশোধের চুক্তি করছে। এই চুক্তিগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে চীনের রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণ বীমা সংস্থা সিনোসিউর।

ব্যাংক ছাড়াই বাণিজ্য চালু রাখার কৌশল
এই ব্যবস্থায় ব্রাজিলের কোনো ব্যাংক জড়িত থাকে না এবং স্থানীয় ঋণসীমাও ব্যবহার করতে হয় না। ফলে উচ্চ সুদের চাপ এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে আমদানিকারকেরা। চীনা সরবরাহকারীরা সিনোসিউরের বীমা কাভারের ওপর ভরসা করে পণ্য সরবরাহ করছে।
বিশ্ববাজারে সিনোসিউরের বিস্তার
সিনোসিউর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য ঋণ বীমা প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বীমা কভার দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি রপ্তানি ঋণই ৮৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা চীনের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।

কীভাবে কাজ করে এই বীমা ব্যবস্থা
সিনোসিউর সরাসরি অর্থ লেনদেন করে না। বরং বিদেশি ক্রেতা নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে চীনা রপ্তানিকারকদের অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রেতা বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়। এরপরও পরিশোধ না হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বীমা দাবির আবেদন করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















