সৌদি আরব সরকার ইরানের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘স্পষ্ট ও কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো হুমকির জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।
মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক
মঙ্গলবার গভীর রাতে সৌদি মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠকের পর সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় মন্ত্রিসভা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
বৈঠকে সৌদি সরকার স্পষ্টভাবে জানায়, যেসব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের ভূখণ্ড ইরানের সরাসরি আগ্রাসনের শিকার হয়েছে, তাদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে রিয়াদ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
রিয়াদে ড্রোন হামলার ঘটনা
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ড্রোন হামলা। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে হামলার সময় দূতাবাস কমপ্লেক্সে সীমিত মাত্রায় আগুন ধরে যায় এবং সামান্য বস্তুগত ক্ষতি হয়। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদ ও আল-খারজ শহর লক্ষ্য করে পাঠানো অতিরিক্ত আটটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে সৌদি বাহিনী।

আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ
রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে হামলার ঘটনাকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা সম্পূর্ণ অবৈধ।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেছে, সৌদি আরব সবসময়ই ঘোষণা দিয়ে এসেছে যে তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও সংহতি
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সৌদি মন্ত্রিসভা বিভিন্ন দেশের সমর্থন ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো—বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এবং জর্ডান এক যৌথ বিবৃতিতে হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ভারতের নেতারাও সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সংহতি প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বহু উপসাগরীয় দেশের নাগরিক বর্তমানে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আটকে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য আতিথেয়তা ও সহায়তার ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পুনর্ব্যক্ত করেছেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলো যে উদ্যোগই নিক না কেন, সৌদি আরব তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















