০৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
চীনা এয়ারলাইন নিয়ন্ত্রকের দোটানা, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে জ্বালানি খরচ চাঁদে ফেরার দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পদক্ষেপ, আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীদের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু ইরানের আকাশে মার্কিন এফ-৩৫ ধ্বংসের ‘গাইড’ ভাইরাল: চীনা প্রকৌশলীদের অনলাইন সক্রিয়তা বাড়ছে ট্রাম্প কিভাবে ইরান যুদ্ধের মার্কিন লক্ষ্য দ্রুত শেষ করার যুক্তি তৈরি করতে পারেন ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ঘোষণা: “নিশ্চিত, মহাজয়” কিন্তু আরও হামলার ইঙ্গিত রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পেতে প্রায় এক বছর দেরী হবে জুনের মধ্যে সব ব্যাংককে ‘বাংলা QR’ অ্যাপ চালু করতে হবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে স্কুল, রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের পরিকল্পনা করছে সরকার লিবিয়া থেকে ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন, আটকে থাকা আরও অনেকের মুক্তির অপেক্ষা আশুলিয়ায় দুটি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ, ৪,০০০ শ্রমিক কর্মহীন

হিজবুল্লাহর হামলায় নতুন যুদ্ধের মুখে লেবানন, ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় তীব্র উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ হঠাৎ করেই ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই হামলার পরপরই ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হঠাৎ হামলায় উত্তেজনার বিস্ফোরণ

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি বিমান হামলা চলছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহ সেই হামলার জবাব দেয়নি। কিন্তু সোমবার গভীর রাতে পরিস্থিতি বদলে যায়।

A thick column of dark smoke rises above a densely packed city under a blue sky.

রাত প্রায় একটার দিকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে এবং একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠায়। এই হামলাকে অনেক বিশ্লেষক প্রতীকী প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। কারণ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের প্রায় পঞ্চাশটির বেশি গ্রামে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পুরো শহরকে আতঙ্কিত করে তোলে।

লেবানন সরকারের কঠোর অবস্থান

এই হামলার পর লেবাননের ভেতরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জরুরি বৈঠকের পর দেশটির সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয় এবং সংগঠনটিকে রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, হিজবুল্লাহ দেশের অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করেছে। তার মতে, এই হামলা লেবাননকে আবারও বড় যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।

People sitting in a utilitarian room with white walls and short ladders, some looking at phones and one person tending to a cable. A large German shepherd on a blue leash lies on the tiled floor.

যুদ্ধক্লান্ত লেবাননের উদ্বেগ

গত কয়েক বছরে লেবানন ইতিমধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ক্ষতি বহন করেছে। দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অবস্থানে রকেট ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা চালায় এবং প্রায় এক বছর ধরে চলা সংঘাতে লেবাননের বহু শহর ও গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সে সময় হিজবুল্লাহর বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস হয়, বহু যোদ্ধা নিহত হয় এবং সংগঠনটির দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন। ফলে সংগঠনটির সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

ইরানের প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার সিদ্ধান্ত মূলত তেহরান থেকেই এসেছে। কারণ নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার পর থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমে আরও সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাদের মতে, ইরান বর্তমানে এই সংঘাতকে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। সেই কারণেই তারা হিজবুল্লাহকে সামনে রেখে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত বাড়াতে প্রস্তুত হয়েছে।

A crowd of people, including children, is gathered on the steps of a building in daytime. Some wear high-visibility vests.

হতাহত ও নতুন হামলার আশঙ্কা

ইসরায়েলের বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত বায়ান্ন জন নিহত এবং একশ চুয়ান্ন জন আহত হয়েছে বলে লেবাননের সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী আবারও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘোষণা দিয়েছে এবং প্রায় পঞ্চাশটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান সংঘাত আরও বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। অনেকের মতে, এটি হয়তো ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শেষ এবং সবচেয়ে বড় সংঘাত হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা এয়ারলাইন নিয়ন্ত্রকের দোটানা, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে জ্বালানি খরচ

হিজবুল্লাহর হামলায় নতুন যুদ্ধের মুখে লেবানন, ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় তীব্র উত্তেজনা

০২:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ হঠাৎ করেই ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই হামলার পরপরই ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হঠাৎ হামলায় উত্তেজনার বিস্ফোরণ

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি বিমান হামলা চলছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহ সেই হামলার জবাব দেয়নি। কিন্তু সোমবার গভীর রাতে পরিস্থিতি বদলে যায়।

A thick column of dark smoke rises above a densely packed city under a blue sky.

রাত প্রায় একটার দিকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে এবং একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠায়। এই হামলাকে অনেক বিশ্লেষক প্রতীকী প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। কারণ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের প্রায় পঞ্চাশটির বেশি গ্রামে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পুরো শহরকে আতঙ্কিত করে তোলে।

লেবানন সরকারের কঠোর অবস্থান

এই হামলার পর লেবাননের ভেতরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জরুরি বৈঠকের পর দেশটির সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয় এবং সংগঠনটিকে রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, হিজবুল্লাহ দেশের অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করেছে। তার মতে, এই হামলা লেবাননকে আবারও বড় যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।

People sitting in a utilitarian room with white walls and short ladders, some looking at phones and one person tending to a cable. A large German shepherd on a blue leash lies on the tiled floor.

যুদ্ধক্লান্ত লেবাননের উদ্বেগ

গত কয়েক বছরে লেবানন ইতিমধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ক্ষতি বহন করেছে। দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অবস্থানে রকেট ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা চালায় এবং প্রায় এক বছর ধরে চলা সংঘাতে লেবাননের বহু শহর ও গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সে সময় হিজবুল্লাহর বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস হয়, বহু যোদ্ধা নিহত হয় এবং সংগঠনটির দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন। ফলে সংগঠনটির সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

ইরানের প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার সিদ্ধান্ত মূলত তেহরান থেকেই এসেছে। কারণ নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার পর থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমে আরও সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাদের মতে, ইরান বর্তমানে এই সংঘাতকে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। সেই কারণেই তারা হিজবুল্লাহকে সামনে রেখে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত বাড়াতে প্রস্তুত হয়েছে।

A crowd of people, including children, is gathered on the steps of a building in daytime. Some wear high-visibility vests.

হতাহত ও নতুন হামলার আশঙ্কা

ইসরায়েলের বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত বায়ান্ন জন নিহত এবং একশ চুয়ান্ন জন আহত হয়েছে বলে লেবাননের সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী আবারও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘোষণা দিয়েছে এবং প্রায় পঞ্চাশটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান সংঘাত আরও বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। অনেকের মতে, এটি হয়তো ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শেষ এবং সবচেয়ে বড় সংঘাত হতে পারে।