০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

অস্ত্র ভাণ্ডারের চাপ: দীর্ঘ হলে ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যাবে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্ত্রের মজুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের প্রায় সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তারা শত্রুর পরিকল্পনার চেয়েও দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ফল শুধু শক্তি বা কৌশলে নির্ধারিত হয় না, অস্ত্র ভাণ্ডারের চাপও বড় ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে ভাষণে যা বললেন ডোনাল্ড  ট্রাম্প - BBC News বাংলা

যুদ্ধের শুরু থেকেই দ্রুতগতির আক্রমণ

যুদ্ধের শুরু থেকেই দুই পক্ষের হামলার গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে, যার প্রতিটিতে একাধিক ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। যদিও এর অনেকগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হয়েছে। তবুও এই মাত্রার সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া দুই পক্ষের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

Trump's Iran timeline spurs concern over US weapons stockpiles

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার কমছে

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে কয়েক ডজনের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ছিয়াশি শতাংশ কমে গেছে।

একইভাবে ড্রোন হামলাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন তৈরি করেছিল এবং সেই প্রযুক্তি অন্য দেশেও সরবরাহ করেছে। তবুও যুদ্ধ দীর্ঘ হলে উৎপাদন বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদই নির্ধারণ করবে  ফলাফল

আকাশ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

বর্তমানে আকাশপথে বড় সুবিধা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কার্যকর বিমানবাহিনীও নেই। ফলে এখন তাদের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি এবং অস্ত্র উৎপাদন কারখানা ধ্বংস করা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে সব অস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করা সহজ নয়। ইরানের বিশাল ভূখণ্ডের অনেক স্থানে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডার বড় হলেও সীমাবদ্ধতা আছে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত অন্য অনেক দেশের চেয়ে বড়। কিন্তু তাদের অনেক অস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয়।

প্রাথমিক হামলায় দূরপাল্লার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর এখন তারা তুলনামূলক কম দামের বোমা ব্যবহার করছে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়া সহজ হতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে লক্ষ্যবস্তুও ধীরে ধীরে কমে যায় এবং আক্রমণের গতি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে।

Bangladesh - 🇺🇸🌋🇧🇩 যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভান্ডার বাংলাদেশের প্রয়োজন  মেটাতে কতটা সক্ষম,,এবিষয়ে আলোচনা আজকের বিষয়🇧🇩⚔️🇺🇸 🏹 যুক্তরাষ্ট্রের  ...

আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চাপ

যুদ্ধের শুরুতে ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র খুব ব্যয়বহুল এবং সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয়।

বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র দেশগুলো এবং ইউক্রেন—সবাই এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। ফলে দীর্ঘ সংঘাতে এই অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল ইরান

দীর্ঘ যুদ্ধ হলে নতুন ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় আকাশ থেকে স্থল হামলা চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় যদি অস্ত্রের মজুত কমে যায়, তাহলে অন্য অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘ লড়াইয়ে ইরান তাদের টেক্কা দিতে পারবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

অস্ত্র ভাণ্ডারের চাপ: দীর্ঘ হলে ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যাবে

০৩:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্ত্রের মজুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের প্রায় সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তারা শত্রুর পরিকল্পনার চেয়েও দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ফল শুধু শক্তি বা কৌশলে নির্ধারিত হয় না, অস্ত্র ভাণ্ডারের চাপও বড় ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে ভাষণে যা বললেন ডোনাল্ড  ট্রাম্প - BBC News বাংলা

যুদ্ধের শুরু থেকেই দ্রুতগতির আক্রমণ

যুদ্ধের শুরু থেকেই দুই পক্ষের হামলার গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে, যার প্রতিটিতে একাধিক ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। যদিও এর অনেকগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হয়েছে। তবুও এই মাত্রার সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া দুই পক্ষের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

Trump's Iran timeline spurs concern over US weapons stockpiles

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার কমছে

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে কয়েক ডজনের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ছিয়াশি শতাংশ কমে গেছে।

একইভাবে ড্রোন হামলাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন তৈরি করেছিল এবং সেই প্রযুক্তি অন্য দেশেও সরবরাহ করেছে। তবুও যুদ্ধ দীর্ঘ হলে উৎপাদন বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদই নির্ধারণ করবে  ফলাফল

আকাশ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

বর্তমানে আকাশপথে বড় সুবিধা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কার্যকর বিমানবাহিনীও নেই। ফলে এখন তাদের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি এবং অস্ত্র উৎপাদন কারখানা ধ্বংস করা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে সব অস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করা সহজ নয়। ইরানের বিশাল ভূখণ্ডের অনেক স্থানে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডার বড় হলেও সীমাবদ্ধতা আছে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত অন্য অনেক দেশের চেয়ে বড়। কিন্তু তাদের অনেক অস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয়।

প্রাথমিক হামলায় দূরপাল্লার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর এখন তারা তুলনামূলক কম দামের বোমা ব্যবহার করছে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়া সহজ হতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে লক্ষ্যবস্তুও ধীরে ধীরে কমে যায় এবং আক্রমণের গতি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে।

Bangladesh - 🇺🇸🌋🇧🇩 যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভান্ডার বাংলাদেশের প্রয়োজন  মেটাতে কতটা সক্ষম,,এবিষয়ে আলোচনা আজকের বিষয়🇧🇩⚔️🇺🇸 🏹 যুক্তরাষ্ট্রের  ...

আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চাপ

যুদ্ধের শুরুতে ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র খুব ব্যয়বহুল এবং সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয়।

বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র দেশগুলো এবং ইউক্রেন—সবাই এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। ফলে দীর্ঘ সংঘাতে এই অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল ইরান

দীর্ঘ যুদ্ধ হলে নতুন ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় আকাশ থেকে স্থল হামলা চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় যদি অস্ত্রের মজুত কমে যায়, তাহলে অন্য অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘ লড়াইয়ে ইরান তাদের টেক্কা দিতে পারবে না।