মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সংঘাতের ছায়া এখন ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’ ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর এখন সবার নজর পড়েছে ইরানের সামরিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘বুশেইর’-এর দিকে, যা শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের কাছে নোঙর করে আছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জাহাজকে ঘিরে ভবিষ্যতে নতুন কূটনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
ডেনা ডুবে যাওয়ার পর নতুন দৃষ্টি বুশেইরে
সম্প্রতি গলের উপকূল থেকে প্রায় পঞ্চাশ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের করভেট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’ ডুবে যায়। একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায় বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর এখন নজর পড়েছে ইরানের সামরিক ট্যাঙ্কার ‘বুশেইর’-এর দিকে। জাহাজটি বর্তমানে কলম্বো বন্দরের বাইরের নোঙর স্থল থেকে প্রায় দশ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে এবং সেটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার ভেতরে রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমুদ্রযুদ্ধে ইরানের বড় ক্ষতি
ইরান যখন হরমুজ প্রণালী এলাকায় বিদেশি যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়, তখন পাল্টা অভিযানে তাদের একাধিক যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়। সামরিক সূত্র বলছে, ‘ডেনা’সহ মোট আঠারোটি জাহাজ ডুবে গেছে। এর মধ্যে সাবমেরিনও ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন জাহাজে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল। এর ফলে ওই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে এবং সামরিকভাবে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ইরানের পাল্টা হামলার চেষ্টা
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষতির পর দেশটি সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশ, এমনকি তুরস্কের বিরুদ্ধেও হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার—যেসব দেশ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রাখতে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো বেশিরভাগ হামলাই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

আক্রমণের মুখেও টিকে আছে ইরানের সামরিক কাঠামো
তীব্র বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পরও ইরানের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং বিশেষ কুদস বাহিনী এখনো সক্রিয় রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকৃত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ফলে বিভিন্ন ইউনিট আলাদাভাবে হামলা চালাতে পারছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
আলোচনাই হতে পারে শেষ পথ
বর্তমান সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথেই সমাধান আসতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কারণ ইরানের প্রধান দুই মিত্র দেশ এখনো সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি। ফলে চাপের মুখে তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে হতে পারে, বিশেষ করে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















