০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধকে জ্বালানি যুদ্ধে পরিনত করতে সমর্থ হয়েছে দুবাইয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় ছোট ঘরে জীবন: নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান নতুন শান্তি আলোচনা, যুদ্ধবিরতি ও সীমান্ত খুলতে জোর চেষ্টা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে ট্রাম্পের বিধিনিষেধে সুপ্রিম কোর্টের সংশয়, শুনানিতে তীব্র প্রশ্নবাণ স্পেসএক্স আইপিও ঝড়: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে নামতে যাচ্ছে মাস্কের মহাকাশ সাম্রাজ্য ইরান যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, পাকিস্তান হয়ে গোপন বার্তা আদান-প্রদান ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের: আইনি জটিলতায় কি সত্যিই বের হতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র? যুদ্ধ থামলেও থামবে না ঝুঁকি: ইরান আরও শক্তিশালী, উপসাগরীয় অঞ্চল বড় বিপদের মুখে ইরান প্রেসিডেন্টের বার্তা: সাধারণ আমেরিকানদের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই  ইরান থেকে দ্রুত সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রয়োজনে ফের হামলা—ট্রাম্পের ইঙ্গিতেই বাড়ছে বৈশ্বিক উত্তেজনা

ভারত মহাসাগর নিরাপত্তা সম্মেলন ২০২৬: প্রধান বক্তা প্রফেসর নোবুকাতসু কানেহারা

ভারত মহাসাগর অঞ্চলকে ঘিরে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ ‘পাথফাইন্ডার ইন্ডিয়ান ওশান সিকিউরিটি কনফারেন্স’। এই আঞ্চলিক সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাপানের রেইতাকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর নোবুকাতসু কানেহারা।

তিনি এর আগে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহকারী প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আয়োজকদের মতে, এই সম্মেলনে কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, কৌশল বিশ্লেষক, গবেষক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের উদীয়মান নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

সম্মেলনের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা

সম্মেলনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত শিবশঙ্কর মেনন এবং পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত বার্নার্ড গুনেতিলেক।

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশন এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। প্রতিষ্ঠানটি নীতিনির্ধারণী গবেষণা ও নীতি পরামর্শে কাজ করে থাকে।

আয়োজকদের মতে, এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলনটি ট্র্যাক ১.৫ ও ট্র্যাক–২ পর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্ভব হয়।

সম্মেলনের পটভূমি ও গুরুত্ব

পাথফাইন্ডার ইন্ডিয়ান ওশান সিকিউরিটি কনফারেন্স সিরিজ প্রথম শুরু হয় ২০২০ সালে। এটি ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণার নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে।

শুরু হওয়ার পর থেকে এই সম্মেলনটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শাসনব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

২০২০ ও ২০২২ সালের সম্মেলন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে এটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজন করা হয়।

এবারের সম্মেলনে ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রাষ্ট্র, সংলাপ অংশীদার, বিভিন্ন সামুদ্রিক শক্তিধর দেশ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।

Day 01 of 4th Pathfinder Indian Ocean Security Conference (PFIOSC)

চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা

এবারের সম্মেলনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক সংযোগ করিডোর—যেখানে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ ও আইএমইসি সহ অন্যান্য প্রকল্পের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।

ডিজিটাল সামুদ্রিক সিল্ক রোড, সাবমেরিন কেবল, তথ্য নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে।

এছাড়া সমুদ্রতলের খনিজ সম্পদকে ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তায় এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং মানবিক নিরাপত্তা—যা বর্তমানে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

আলোচনায় অংশ নেবেন বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা। তারা দেখার চেষ্টা করবেন কীভাবে কৌশলগত প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জ্বালানি রূপান্তর এবং জলবায়ু সংকট ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীল উন্নয়নের পথও খোঁজা হবে।

অনলাইনেও দেখা যাবে সম্মেলন

সম্মেলনটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগ্রহীরা অনলাইনের মাধ্যমেও পুরো অনুষ্ঠান অনুসরণ করতে পারবেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় লিংক পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

সম্মেলন শেষে আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং নীতিগত সুপারিশ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এটি নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে এবং পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটেও উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলোর প্রতিবেদনও ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধকে জ্বালানি যুদ্ধে পরিনত করতে সমর্থ হয়েছে

ভারত মহাসাগর নিরাপত্তা সম্মেলন ২০২৬: প্রধান বক্তা প্রফেসর নোবুকাতসু কানেহারা

০৪:৪১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ভারত মহাসাগর অঞ্চলকে ঘিরে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ ‘পাথফাইন্ডার ইন্ডিয়ান ওশান সিকিউরিটি কনফারেন্স’। এই আঞ্চলিক সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাপানের রেইতাকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর নোবুকাতসু কানেহারা।

তিনি এর আগে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহকারী প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আয়োজকদের মতে, এই সম্মেলনে কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, কৌশল বিশ্লেষক, গবেষক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের উদীয়মান নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

সম্মেলনের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা

সম্মেলনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত শিবশঙ্কর মেনন এবং পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত বার্নার্ড গুনেতিলেক।

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশন এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। প্রতিষ্ঠানটি নীতিনির্ধারণী গবেষণা ও নীতি পরামর্শে কাজ করে থাকে।

আয়োজকদের মতে, এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলনটি ট্র্যাক ১.৫ ও ট্র্যাক–২ পর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্ভব হয়।

সম্মেলনের পটভূমি ও গুরুত্ব

পাথফাইন্ডার ইন্ডিয়ান ওশান সিকিউরিটি কনফারেন্স সিরিজ প্রথম শুরু হয় ২০২০ সালে। এটি ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণার নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে।

শুরু হওয়ার পর থেকে এই সম্মেলনটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শাসনব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

২০২০ ও ২০২২ সালের সম্মেলন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে এটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজন করা হয়।

এবারের সম্মেলনে ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রাষ্ট্র, সংলাপ অংশীদার, বিভিন্ন সামুদ্রিক শক্তিধর দেশ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।

Day 01 of 4th Pathfinder Indian Ocean Security Conference (PFIOSC)

চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা

এবারের সম্মেলনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক সংযোগ করিডোর—যেখানে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ ও আইএমইসি সহ অন্যান্য প্রকল্পের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।

ডিজিটাল সামুদ্রিক সিল্ক রোড, সাবমেরিন কেবল, তথ্য নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে।

এছাড়া সমুদ্রতলের খনিজ সম্পদকে ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তায় এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং মানবিক নিরাপত্তা—যা বর্তমানে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

আলোচনায় অংশ নেবেন বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা। তারা দেখার চেষ্টা করবেন কীভাবে কৌশলগত প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জ্বালানি রূপান্তর এবং জলবায়ু সংকট ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীল উন্নয়নের পথও খোঁজা হবে।

অনলাইনেও দেখা যাবে সম্মেলন

সম্মেলনটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগ্রহীরা অনলাইনের মাধ্যমেও পুরো অনুষ্ঠান অনুসরণ করতে পারবেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় লিংক পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

সম্মেলন শেষে আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং নীতিগত সুপারিশ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এটি নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে এবং পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটেও উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলোর প্রতিবেদনও ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে।