কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রযুক্তিগত প্রভাব বাড়াতে লড়াই করছে, আর সেই প্রতিযোগিতার নতুন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে আফ্রিকা।
আফ্রিকার ডিজিটাল অগ্রগতি ও কৌশলগত গুরুত্ব
বিশ্বের প্রযুক্তি কেন্দ্র সিলিকন ভ্যালি বা শেনঝেন থেকে অনেক দূরে হলেও আফ্রিকার দ্রুত বিস্তৃত ডিজিটাল অবকাঠামো এখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি, ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যের কারণে আফ্রিকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
প্রযুক্তি অবকাঠামো ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বাজারের কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে। এ কারণে বৈশ্বিক প্রযুক্তি গ্রহণের পরবর্তী ধাপে আফ্রিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টেক অ্যান্ড সোসাইটি’ উদ্যোগের সাবেক ফেলো অ্যালিস চেন বলেন, জনসংখ্যাগত দিক থেকে বিচার করলে ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে আফ্রিকায়। তার মতে, এই জনসংখ্যাগত শক্তিই আগামী দশকগুলোতে মহাদেশটির প্রযুক্তি বাজারকে বড় করে তুলবে।
চীনের প্রভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ
আফ্রিকায় চীনের উপস্থিতি অনেকদিন ধরেই শক্তিশালী, বিশেষ করে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে অবকাঠামো বিনিয়োগের কারণে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আফ্রিকার প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে বৈষম্য
মাইক্রোসফটের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বৈশ্বিক উত্তরের দেশগুলোতে প্রায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। অন্যদিকে আফ্রিকাসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে এই হার মাত্র ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। এই ব্যবধানই প্রযুক্তি কোম্পানি ও সরকারগুলোর কাছে আফ্রিকাকে নতুন সম্ভাবনার বাজার হিসেবে তুলে ধরছে।
![]()
ভবিষ্যতের বৃহৎ ডিজিটাল বাজার
বিশ্লেষকদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের একজন আফ্রিকার বাসিন্দা হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছে আফ্রিকা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল সীমান্তগুলোর একটি, যেখানে প্রযুক্তি বাজারের ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি।
তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার
অ্যালিস চেন বলেন, আফ্রিকায় নতুন প্রযুক্তির প্রতি মানুষের আগ্রহ অত্যন্ত বেশি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আফ্রিকার মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং তরুণদের মধ্যে চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারকে আরও বড় করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















