ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আকাশ ও সমুদ্র—দুই দিক থেকেই ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তারা আরও যুদ্ধবিমান ও সামরিক শক্তি মোতায়েন করছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘর্ষে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
ইরানে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ
ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু করে। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার কোনো শত্রুপক্ষের জাহাজ টর্পেডো হামলায় ডুবিয়েছে তাদের নৌবাহিনী।

আকাশ নিয়ন্ত্রণের দাবি
মার্কিন প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের মতে, ইরানের আকাশসীমায় কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাদের দাবি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একইভাবে একমুখী ড্রোন হামলাও অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ফলে এখন আরও গভীরে হামলা চালানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে অভিযান বাড়ানো হবে।
যুদ্ধের বিস্তার ও পাল্টা হামলা
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মার্কিন নাগরিক অঞ্চলটি ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্রগোষ্ঠীর হামলায় ইতিমধ্যে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় চার সেনার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।

বাড়ছে সেনা মোতায়েন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার সেনা, শতাধিক যুদ্ধবিমান, একাধিক বিমানবাহী রণতরী এবং দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আরও সামরিক শক্তি পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে।
মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, এতে ইরানের নৌবাহিনী ও সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এই যুদ্ধের প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। এতে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কত দূর গড়াবে তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















