আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়েছে এবং কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ বদলে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
প্রসিকিউশনের দুর্নীতি ও টাকার ব্যাগ বিতর্ক
আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলার আসামি আফজালুলের পরিবারের এক সদস্য ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের রুমে টাকার ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই প্রসিকিউশন টিমের অন্যতম সদস্য বিএম সুলতান মাহমুদ এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ১০ মার্চ পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন। কমিটি সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগসহ ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠনের পর থেকে সব বিষয়ে খতিয়ে দেখবে।

হার্ডড্রাইভের গায়েব হওয়া
তদন্তে প্রকাশ, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা লক্ষ্য করেন, ওই দিনের ভিডিও হার্ডড্রাইভে নেই। প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমে উদ্ধার করা যায়নি। সিসলগ ও রেজিস্ট্রার খাতাতেও দেখা গেছে কিছু হার্ডড্রাইভ রিপ্লেস হয়েছে।”
প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের ধারা
জোহা জানান, বিষয়টি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী কমিটি পরবর্তী ব্যবস্থা ও সুপারিশ করবে। তবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, “ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এখনও কোনো কাজ শুরু করেনি, জোহার বক্তব্য ব্যক্তিগত। অনুসন্ধান চলাকালে এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত।”
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সব বিষয় নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তে সব তথ্য উঠে আসবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















