চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ঘাসের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের পর বিষক্রিয়ায় শতাধিক দেশি পাখির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। জমিতে পোকামাকড় দমনের জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত থেকেই জমিতে বিষ মেশানো ধান ও বিষাক্ত পোকামাকড় খাওয়ার পর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মারা যেতে শুরু করে। একের পর এক পাখির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
ঘাসের জমিতে বিষ প্রয়োগ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জমির মালিক পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করেন। তবে সেই বিষের প্রভাবে শুধু ক্ষতিকর পোকামাকড় নয়, জমিতে খাবার সংগ্রহ করতে আসা বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও মারা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ঘটনার খবর পেয়ে রোববার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দামুড়হুদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির মালিকের ছেলে রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কথা স্বীকার করেন।
মোবাইল কোর্টে জরিমানা
পরে এ ঘটনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমনভাবে কীটনাশক ব্যবহার না করার বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়, যাতে পাখি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়।
দামুড়হুদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের আরও সতর্ক হতে হবে। কীটনাশক এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়, যাতে পাখি, পরিবেশ কিংবা জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কৃষকদের সচেতনভাবে কীটনাশক ব্যবহারের আহ্বান জানান।
ঘাসের জমিতে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় একসঙ্গে শতাধিক দেশি পাখির মৃত্যু স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনাটি কৃষিজমিতে কীটনাশক ব্যবহারের সময় পাখি ও পরিবেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশকের বিষে শতাধিক দেশি পাখির মৃত্যু; জমিতে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















