১১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান প্রেসিডেন্টের বার্তা: সাধারণ আমেরিকানদের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই  ইরান থেকে দ্রুত সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রয়োজনে ফের হামলা—ট্রাম্পের ইঙ্গিতেই বাড়ছে বৈশ্বিক উত্তেজনা সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ইস্টার্ন রিফাইনারি সাময়িক বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, তেলের ঘাটতি বাড়ছে পাঞ্জাবের স্কুলে শুক্রবার নির্ধারিত হল সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ রহস্য: হার্ডড্রাইভ বদলে যাওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ট্রেন লাইনচ্যুত, তেলবাহী ওয়াগন খালে পড়লো, স্থানীয়দের হিড়িক যুদ্ধের প্রভাবে রফতানি কমছে, চাপ বাড়ছে শিল্প খাতে খাদ্য সংকটের সতর্কতা দিল IMF — বিশ্বের ২০ কোটি ব্যারেল তেল হারাচ্ছে প্রতিদিন ঘুমের সমস্যায় কার্যকর সমাধান যোগব্যায়াম? নতুন গবেষণায় মিলছে ইতিবাচক ফল

ইরান যুদ্ধে দ্রুত ফুরোচ্ছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, তবু পেন্টাগনের দাবি—যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা এখনও অটুট

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ব্যাপক বিমান হামলার অভিযানের এক সপ্তাহও পার হয়নি, অথচ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নির্ভুল অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে সামরিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাছে এখনো যথেষ্ট অস্ত্র রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

দ্রুত কমছে নির্ভুল অস্ত্রের মজুত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইতোমধ্যে শত শত অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বসেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত প্যাট্রিয়ট ও উচ্চ উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এত বড় পরিসরের অভিযানের ফলে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের এখন হিসাব করতে হচ্ছে—ইরানের অস্ত্র মজুত কত দ্রুত কমবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কতদিন একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে।

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারণা, এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ভুল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের জন্য সামরিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক অভিযান—সব মিলিয়ে অস্ত্রের মজুত আগেই কিছুটা কমে গিয়েছিল। ফলে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের আশ্বাস

তবে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ কম উন্নত কিন্তু কার্যকর অস্ত্র রয়েছে, যা প্রয়োজনে বড় পরিসরে ব্যবহার করা যাবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের মতে, শিগগিরই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে মার্কিন যুদ্ধবিমান আরও কাছে গিয়ে আঘাত হানতে পারবে। তখন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল নির্দেশনাযুক্ত বোমা ব্যবহার করেই বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব হবে।

Pentagon plays down concerns US attack risks plunging it into new, endless  war | MEO

পাল্টা হামলায় ইরান

এদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা হাজার হাজার ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশের দিকে।

বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক স্থানে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা। একটি ড্রোন হামলায় কুয়েতে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন তাদের অস্ত্র ব্যবহারে নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা সস্তা ড্রোন দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে তুলছে।

অন্যদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মূলত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

চীনকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আরেকটি বড় কৌশলগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অস্ত্র মজুত থেকেও সরিয়ে নিতে হতে পারে।

বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের বাড়তে থাকা সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নতুন অর্থ বরাদ্দের সম্ভাবনা

মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সামরিক ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাবে। ফলে অস্ত্র মজুত পুনরায় পূরণ করতে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান প্রেসিডেন্টের বার্তা: সাধারণ আমেরিকানদের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই

ইরান যুদ্ধে দ্রুত ফুরোচ্ছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, তবু পেন্টাগনের দাবি—যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা এখনও অটুট

০৭:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ব্যাপক বিমান হামলার অভিযানের এক সপ্তাহও পার হয়নি, অথচ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নির্ভুল অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে সামরিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাছে এখনো যথেষ্ট অস্ত্র রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

দ্রুত কমছে নির্ভুল অস্ত্রের মজুত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইতোমধ্যে শত শত অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বসেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত প্যাট্রিয়ট ও উচ্চ উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এত বড় পরিসরের অভিযানের ফলে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের এখন হিসাব করতে হচ্ছে—ইরানের অস্ত্র মজুত কত দ্রুত কমবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কতদিন একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে।

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারণা, এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ভুল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের জন্য সামরিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক অভিযান—সব মিলিয়ে অস্ত্রের মজুত আগেই কিছুটা কমে গিয়েছিল। ফলে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের আশ্বাস

তবে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ কম উন্নত কিন্তু কার্যকর অস্ত্র রয়েছে, যা প্রয়োজনে বড় পরিসরে ব্যবহার করা যাবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের মতে, শিগগিরই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে মার্কিন যুদ্ধবিমান আরও কাছে গিয়ে আঘাত হানতে পারবে। তখন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল নির্দেশনাযুক্ত বোমা ব্যবহার করেই বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব হবে।

Pentagon plays down concerns US attack risks plunging it into new, endless  war | MEO

পাল্টা হামলায় ইরান

এদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা হাজার হাজার ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশের দিকে।

বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক স্থানে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা। একটি ড্রোন হামলায় কুয়েতে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন তাদের অস্ত্র ব্যবহারে নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা সস্তা ড্রোন দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে তুলছে।

অন্যদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মূলত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

চীনকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আরেকটি বড় কৌশলগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অস্ত্র মজুত থেকেও সরিয়ে নিতে হতে পারে।

বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের বাড়তে থাকা সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নতুন অর্থ বরাদ্দের সম্ভাবনা

মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সামরিক ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাবে। ফলে অস্ত্র মজুত পুনরায় পূরণ করতে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।