পাকিস্তানে জ্বালানি মজুত নিয়ে অস্থিরতার আশঙ্কার মধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলোতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সম্ভাব্য মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে দেশের সব প্রদেশকে খুচরা পেট্রোল স্টেশনগুলোতে সরাসরি পরিদর্শন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
পেট্রোল পাম্পে সরাসরি নজরদারি
সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করে বা অনুমোদনহীন স্থানে সংরক্ষণ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্সবিহীন কোনো স্থানে জ্বালানি মজুত পাওয়া গেলে সেই জায়গা সঙ্গে সঙ্গে সিলগালা করা হবে।
সরকারের ধারণা, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা করার চেষ্টা করতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুতের আশ্বাস
নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুত নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যেই রয়েছে এবং চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে তেল ডিপো ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত পরিদর্শন চলছে।
জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশের মতো পাকিস্তানেও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকট নেই। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের কাছ থেকে বিকল্প সমুদ্রপথে তেল সরবরাহের ব্যবস্থাও চেয়েছে সরকার।
জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা
সরকার বর্তমানে জ্বালানির দাম নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়েও ভাবছে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে প্রতি দুই সপ্তাহে দাম নির্ধারণ করা হয়, সেটি বদলে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই পদ্ধতি চালু হলে প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে বাড়ি থেকে কাজ করার মতো ব্যবস্থাও বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয় শোধনাগার নিয়ে নতুন উদ্বেগ
এদিকে জ্বালানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একটি চিঠি দিয়ে স্থানীয় শোধনাগারের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, আগের বৈঠকে নির্ধারিত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও চলতি মাসে কিছু শোধনাগার হঠাৎ করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে এবং নতুন বণ্টন পদ্ধতি চালু করেছে। এতে অনেক বিপণন প্রতিষ্ঠান তাদের আমদানি পরিকল্পনা করতে পারেনি।
ফলে বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বাধ্যতামূলক মজুত ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শোধনাগারগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















