যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার দুইশ ত্রিশে পৌঁছেছে। দেশের বিভিন্ন শহরে হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি স্থাপনাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিহতের সংখ্যা ও পরিস্থিতি
ইরানের শহীদ ও ভেটেরান বিষয়ক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
দেশজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শহরে নিহতদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কেরমান শহরে হামলায় নিহতদের একটি জানাজায় কফিন বহনের দৃশ্য দেশটির গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

স্কুলে হামলায় বড় ধরনের প্রাণহানি
রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইসরায়েল নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ওই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাবে না।
বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, ফার্মেসি, স্কুল, পুলিশ স্টেশন, জিমনেশিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, তেহরানের সরকারি ভবন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কমপ্লেক্স।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

দেশজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বহু ইরানি নাগরিক জানিয়েছেন, হামলার কারণে তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১৭৪টি শহরে এই হামলার প্রভাব পড়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু
এই সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এই ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















