ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। আহত হয়েছেন আরও ৬৩৮ জন। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে স্থল সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন।
মৃত্যু ও হতাহতের সর্বশেষ তথ্য
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১০২ জন নিহত এবং ৬৩৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে হিজবুল্লাহ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোনো সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা শুধুমাত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালাচ্ছে।

বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা
রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বালবেক শহরের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া আরামাউন ও সাদিয়াত শহরেও বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় আরও ছয়জন নিহত এবং আটজন আহত হন।
বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি ও বাস্তুচ্যুতি
বুধবার ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ এবং বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়ার বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সতর্কতা দেয়।
লেবাননের সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন।

স্থলযুদ্ধ ও সীমান্ত পরিস্থিতি
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্র মজুতের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় স্থলবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
এর জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের পর্যবেক্ষণ
দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা জানিয়েছেন, তারা সেখানে গোলাগুলি ও স্থল সংঘর্ষের শব্দ শুনেছেন এবং প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্ত অতিক্রম করে আরও ইসরায়েলি বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করায় উত্তেজনা বাড়ছে।

সিরিয়া সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে সিরিয়া সীমান্তে সেনা সমাবেশ বাড়তে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আকাশপথ পরিস্থিতি
সংঘাতের মধ্যেও লেবাননের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। কিছু ফ্লাইট এখনও চলাচল করছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















