মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগারেও আক্রমণের চেষ্টা করা হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত দেশটির আকাশে প্রবেশ করা মোট নয়টি ড্রোন ধ্বংস করেছে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
এর একদিন আগে রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে সীমিত আকারে আগুন লাগে এবং সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে মার্কিন নাগরিকদের ওই এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার চেষ্টা
সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রাস তানুরা তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় আকাশেই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক সামরিক মুখপাত্র।
রাষ্ট্র পরিচালিত সৌদি প্রেস এজেন্সিকে তিনি বলেন, এই শোধনাগারটি প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখে। ফলে এটি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশসীমা আংশিক বন্ধ
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরাক ও পারস্য উপসাগর সংলগ্ন অঞ্চলের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে ওই এলাকায় বিমান চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















