ইরানের তৈরি শাহেদ আক্রমণাত্মক ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের তৈরি প্রতিরোধক ড্রোন কেনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম খরচে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে নতুন পরিকল্পনা
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের সরকারি কর্মকর্তারা কিয়েভের সঙ্গে আলোচনা করছেন ইউক্রেনের তৈরি বিশেষ ধরনের প্রতিরোধক ড্রোন সংগ্রহের বিষয়ে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা এবং তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার সক্ষমতা রয়েছে। ফলে আকাশে প্রবেশ করা শত্রু ড্রোন দ্রুত ধ্বংস করা সম্ভব হয়।
এই আলোচনায় বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে এমন ব্যবস্থা যা শত্রু ড্রোনের সংকেত শনাক্ত করে এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে।

জেলেনস্কির ড্রোনের বদলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তাব
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের কাছে শাহেদ ড্রোন ধ্বংসের প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইউক্রেন প্রতিরোধক ড্রোনের বিনিময়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার প্রস্তাবেও আগ্রহী।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এমন কোনো চুক্তি করা হবে না যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা দুর্বল করে দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি
একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইউক্রেনের একটি প্রতিনিধি দল এই সপ্তাহে দোহায় গিয়ে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। একই সময় আরেকটি প্রতিনিধি দল আবুধাবিতেও সফর করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার বেশিরভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে।
ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ড্রোন
বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা শত শত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার প্রতিটির মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার। ফলে তুলনামূলক কম খরচে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ খুঁজছে দেশগুলো।
ইউক্রেন গত চার বছরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় শাহেদ ড্রোন প্রতিরোধে অনেক সস্তা প্রযুক্তি তৈরি করেছে। এই অভিজ্ঞতা এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থাও দেশটির কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে যাতে কিয়েভের অনুমতি ছাড়া কোনো অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশে বিক্রি না করা হয়।

প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিরোধক ড্রোন পরিচালনা সহজ নয়। ইউক্রেনের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি তারাস তিমোচকো বলেছেন, ইউক্রেনের পাইলটদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো কঠিন হবে।
তার মতে, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে হলে ইউক্রেনে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে এই আলোচনা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক সহযোগিতার দিক খুলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















