লেবাননে চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় এক লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে আবার সিরিয়ায় ফিরে যেতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতিকে “বড় ধরনের মানবিক জরুরি অবস্থা” হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।
ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের কিছু অংশে ব্যাপকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে, যা মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মানবিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার জরুরি ও কর্মসূচি সহায়তা বিভাগের পরিচালক আয়াকি ইতো জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতিকে বড় ধরনের মানবিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু অঞ্চলেই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত সমন্বিত দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।
তার মতে, সংঘাতের কারণে যে পরিমাণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।
লেবাননে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের ভেতরেই প্রায় এক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। সংঘাতের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক মানুষ রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে লেবাননে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থীও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে অঞ্চলে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানেও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে
একই সংঘাতের প্রভাবে ইরানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। সংঘাত শুরুর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষ নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আয়াকি ইতো জানান, ইরানে অবস্থানরত সংস্থাটির কর্মীরা প্রতিদিন শত শত ফোনকল পাচ্ছেন। এসব কলের বেশিরভাগই করছেন এমন মানুষ, যারা সহায়তা ও আশ্রয়ের জন্য সাহায্য চাইছেন।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যসহ আশপাশের অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বাস্তুচ্যুত মানুষদের খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















