রাতভর তীব্র বিমান হামলার পর শুক্রবার ভোরে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে এক করুণ মানবিক দৃশ্য দেখা যায়। শহরের দক্ষিণাঞ্চল দাহিয়্যা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ আশ্রয় নেয় খোলা জায়গায়, পার্কিং এলাকায় কিংবা সমুদ্রতীরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ভেতরে। অনেকেই জানিয়েছেন, জীবন বাঁচাতে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় কিছুই সঙ্গে নিতে না পেরে।
হামলার পর রাত কাটল খোলা আকাশের নিচে
ভয়াবহ বিমান হামলার রাত পার হওয়ার পর ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বেইরুটের বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তু মানুষের ছোট ছোট দল চোখে পড়ে। দাহিয়্যা এলাকা থেকে পালিয়ে আসা এসব মানুষ শহরের গোলচত্বর, খালি পার্কিং লট কিংবা সমুদ্রতীরবর্তী রাস্তার ধারে গাড়ির ভেতরে রাত কাটিয়েছেন।

অনেকে গোলচত্বরে কিংবা খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে বসেছিলেন। কেউ আবার গাড়ির সিটে বা মেঝেতে শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেছেন। রাতের আতঙ্কের পর ক্লান্ত মানুষগুলো ভোরের আলোয় কিছুটা নিরাপত্তা খুঁজছিলেন।
হঠাৎ পালানোর মুহূর্ত
উদ্বাস্তু হওয়া অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে তারা প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগই পাননি। কেউ কেউ শুধু পাতলা একটি গদি বা কয়েকটি প্রয়োজনীয় বাসনপত্র নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
কিছু মানুষ বলেন, তারা যখন বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তখন টেলিভিশন এখনও চালু ছিল। আবার কেউ কেউ রমজানের ইফতারের খাবার প্রস্তুত করছিলেন—ঠিক সেই সময়ই শুরু হয় বোমা হামলা। আতঙ্কে তারা সবকিছু ফেলে রেখে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন।

দাহিয়্যার মানুষের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
দাহিয়্যা দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা হিসেবে পরিচিত। নতুন করে হওয়া এই বিমান হামলা সেখানে বসবাসকারী মানুষের জীবনে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা অনেকেই এখন জানেন না, কবে তারা আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন।
শহরের বিভিন্ন খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে থাকা এসব মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত ও উদ্বেগজনক। যুদ্ধ ও হামলার আতঙ্কের মধ্যেই তারা অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার জন্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















