মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর একের পর এক আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বহু ফ্লাইটকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে আজারবাইজানের উত্তরাঞ্চলের আকাশপথে তৈরি হয়েছে তীব্র ভিড়, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।
আজারবাইজানের আকাশে বাড়ছে চাপ
আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর আগে থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত ছিল। তার মধ্যেই ড্রোন হামলার ঘটনার পর অনেক বিমানকে দেশটির উত্তর দিকের একটি সংকীর্ণ করিডর ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মতে, এখন বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপদ রুট বেছে নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে একই করিডরে অনেক ফ্লাইট চলাচল করায় আকাশে ভিড় বাড়ছে এবং পরিকল্পনা করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

রাশিয়া, ইরান ও ইরাকের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে ফ্লাইট
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই পশ্চিমা বিমান সংস্থাগুলো রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহার এড়িয়ে চলছিল। এখন নতুন করে ইরান ও ইরাকের আকাশপথও অনেক ফ্লাইট এড়িয়ে যাচ্ছে।
এর ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে দুটি প্রধান বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। একটি পথ উত্তরের দিকে ককেশাস ও আফগানিস্তান হয়ে, আরেকটি দক্ষিণে মিশর, সৌদি আরব ও ওমানের ওপর দিয়ে। এই দুটি পথই স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ এবং অনেক বেশি ব্যস্ত।
ফলে যাত্রা সময় বাড়ছে এবং জ্বালানি খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
যাত্রীদের বাড়তে পারে ভ্রমণ সময়
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প পথ ব্যবহারের কারণে অনেক যাত্রীর ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কিছু ফ্লাইটকে আরও ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, ফলে আগের তুলনায় সময় বেশি লাগছে।
কিছু বিমান সংস্থা ইতিমধ্যে তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। কয়েকটি দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার জন্য মাঝপথে বিরতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে এশিয়াগামী ফ্লাইটগুলোতে সময় বৃদ্ধি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাড়ছে আকাশপথের ভিড় ও পরিকল্পনার চাপ
দিনের নির্দিষ্ট সময়ে আকাশে চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিকেলের দিকে ইউরোপ থেকে এশিয়াগামী ফ্লাইট বেশি থাকে, আবার ভোরে এশিয়া থেকে ইউরোপের ফ্লাইট বাড়ে। এই সময়গুলোতে সংকীর্ণ করিডরে ভিড় আরও তীব্র হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য আবহাওয়া, সময়সূচি এবং বিমানের পরবর্তী যাত্রা—সবকিছু সমন্বয় করে পরিকল্পনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংঘাত বাড়লে বড় সংকটে পড়তে পারে বিমান শিল্প
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে যদি আজারবাইজান সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে শুরু করে উত্তর রাশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বড় আকাশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তাহলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন তৈরি হবে এবং বিশ্ব বিমান শিল্প বড় ধাক্কা খেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত চলতে থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক মডেলও পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে এশিয়ার যাত্রীদের জন্য দুবাই, আবুধাবি ও দোহাকে বড় ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সংঘাত সেই ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে অন্য শহরগুলো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















