মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ না হলে তাদের ওপর আর ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক হামলা চালাবে না তেহরান। এই ঘোষণাকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ
ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং ইরানের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো দেশ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু না হলে তাদের বিরুদ্ধে আঘাত হানা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই ঘোষণা আঞ্চলিক পরিস্থিতি শান্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

আত্মসমর্পণ করবে না ইরান
ক্ষমা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে আত্মসমর্পণ করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের আত্মসমর্পণ চাওয়ার যে স্বপ্ন শত্রুরা দেখছে, সেটি কখনোই পূরণ হবে না।
তার এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে প্রচারিত হয় এবং দেশটির প্রতিরোধের অবস্থানও এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে এখনও উত্তেজনা
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এখনো বিস্ফোরণের শব্দ, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও সাইরেন শোনা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সংঘাতে বাড়ছে প্রাণহানি
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। লেবাননে দুই শতাধিক এবং ইসরায়েলেও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথ আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















