পাকিস্তান এখন এমন এক সংকটময় সময়ে পড়েছে যখন দেশটির পক্ষে যুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়া প্রায় অসম্ভব। একই অবস্থা আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও। কিন্তু বাস্তবে দুই দেশই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অস্থিতিশীল সীমান্তগুলোর একটিতে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়েছে। ঠিক এই সময়েই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছেছে, যারা দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন করছে এবং পরবর্তী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না তা নির্ধারণ করবে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির তৃতীয় পর্যালোচনা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কর্মকর্তারা পাকিস্তানে এসেছেন দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির তৃতীয় দফা পর্যালোচনার জন্য। এই পর্যালোচনা সফল হলে পাকিস্তান আইএমএফের উদ্ধার প্যাকেজের পরবর্তী কিস্তির অর্থ পেতে পারে। এতে শুধু সরকারি অর্থনীতিই নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কিছুটা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছিল।
কিন্তু সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাল্টাপাল্টি বিমান ও ড্রোন হামলায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সংঘর্ষ কমার কোনো লক্ষণও এখনো দেখা যাচ্ছে না।
অর্থনীতির জন্য অস্বস্তিকর সময়
অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের উদীয়মান বাজার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যালি ডেভিস বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সময় নির্বাচন পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর।
তার মতে, এই মুহূর্তে আইএমএফ কর্মকর্তারা পাকিস্তানে অবস্থান করছেন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির তৃতীয় পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এই পর্যালোচনা সফল হলে পাকিস্তান নতুন করে আর্থিক সহায়তার কিস্তি পেতে পারে।

উন্নতির পথে ছিল পাকিস্তানের অর্থনীতি
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছিল। মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে চাপে থাকা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও কিছুটা ইতিবাচক হচ্ছিল।
কিন্তু গত মাসের শেষ দিকে সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই উত্তেজনা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















