০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে? ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক

জাপানের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু, নতুন করে আলোচনায় শহর

জাপানের নিগাতা প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর কাশিওয়াজাকি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া (KK) দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর এ বছর পুনরায় চালু হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর বন্ধ ছিল কেন্দ্র

২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ বিতর্ক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর অবশেষে এ বছর এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের সহসভাপতি শিনাদা শোইচি বলেন, এই কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়া দেশের জন্য জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার প্রতীক।

বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর প্রস্তুতি

শক্তি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস

কাশিওয়াজাকি বহুদিন ধরেই জাপানের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রাচীন ইতিহাসে এই অঞ্চল থেকে “জ্বলনযোগ্য পানি” সম্রাটের কাছে পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে।

উনিশ শতকের শেষ দিকে জাপানের প্রথম আধুনিক তেল কোম্পানিও এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তানাকা কাকুইয়ের উদ্যোগে এই অঞ্চলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পথ তৈরি হয়।

স্থানীয় অর্থনীতির বড় ভরসা

কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার মানুষ কাজ করেন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নিগাতা অঞ্চলের বাসিন্দা।

একসময় কেন্দ্রটির কর ও ভর্তুকি থেকে শহরের মোট আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি আসত। বর্তমানে সেটি কমে প্রায় ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, তবুও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব এখনো বড়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নতুন করে চালু করল জাপা

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে

তবে এই কেন্দ্র নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও কম নয়। ২০০৭ সালে নিগাতায় ভূমিকম্পের সময় কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, টোকিওর জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আঞ্চলিক শহরগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।

জনসংখ্যা কমছে শহরে

এদিকে শহরটির আরেকটি বড় সমস্যা জনসংখ্যা হ্রাস। ১৯৯৫ সালে কাশিওয়াজাকির জনসংখ্যা ছিল এক লাখের বেশি, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৭৫ হাজারের নিচে।

স্থানীয় প্রশাসন শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ডে-কেয়ার ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সুবিধা চালু করলেও অনেক মানুষ এখনও বড় শহর টোকিওর দিকে চলে যাচ্ছে।

মেয়র সাকুরাই মাসাহিরোর ভাষায়, ভালো চাল ও সাকে থাকলেও টোকিওর আকর্ষণের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে?

জাপানের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু, নতুন করে আলোচনায় শহর

০২:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জাপানের নিগাতা প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর কাশিওয়াজাকি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া (KK) দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর এ বছর পুনরায় চালু হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর বন্ধ ছিল কেন্দ্র

২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ বিতর্ক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর অবশেষে এ বছর এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের সহসভাপতি শিনাদা শোইচি বলেন, এই কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়া দেশের জন্য জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার প্রতীক।

বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর প্রস্তুতি

শক্তি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস

কাশিওয়াজাকি বহুদিন ধরেই জাপানের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রাচীন ইতিহাসে এই অঞ্চল থেকে “জ্বলনযোগ্য পানি” সম্রাটের কাছে পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে।

উনিশ শতকের শেষ দিকে জাপানের প্রথম আধুনিক তেল কোম্পানিও এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তানাকা কাকুইয়ের উদ্যোগে এই অঞ্চলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পথ তৈরি হয়।

স্থানীয় অর্থনীতির বড় ভরসা

কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার মানুষ কাজ করেন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নিগাতা অঞ্চলের বাসিন্দা।

একসময় কেন্দ্রটির কর ও ভর্তুকি থেকে শহরের মোট আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি আসত। বর্তমানে সেটি কমে প্রায় ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, তবুও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব এখনো বড়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নতুন করে চালু করল জাপা

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে

তবে এই কেন্দ্র নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও কম নয়। ২০০৭ সালে নিগাতায় ভূমিকম্পের সময় কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, টোকিওর জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আঞ্চলিক শহরগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।

জনসংখ্যা কমছে শহরে

এদিকে শহরটির আরেকটি বড় সমস্যা জনসংখ্যা হ্রাস। ১৯৯৫ সালে কাশিওয়াজাকির জনসংখ্যা ছিল এক লাখের বেশি, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৭৫ হাজারের নিচে।

স্থানীয় প্রশাসন শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ডে-কেয়ার ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সুবিধা চালু করলেও অনেক মানুষ এখনও বড় শহর টোকিওর দিকে চলে যাচ্ছে।

মেয়র সাকুরাই মাসাহিরোর ভাষায়, ভালো চাল ও সাকে থাকলেও টোকিওর আকর্ষণের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।