জাপানের নিগাতা প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর কাশিওয়াজাকি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া (KK) দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর এ বছর পুনরায় চালু হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর বন্ধ ছিল কেন্দ্র
২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ বিতর্ক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর অবশেষে এ বছর এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের সহসভাপতি শিনাদা শোইচি বলেন, এই কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়া দেশের জন্য জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার প্রতীক।

শক্তি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস
কাশিওয়াজাকি বহুদিন ধরেই জাপানের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রাচীন ইতিহাসে এই অঞ্চল থেকে “জ্বলনযোগ্য পানি” সম্রাটের কাছে পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে।
উনিশ শতকের শেষ দিকে জাপানের প্রথম আধুনিক তেল কোম্পানিও এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তানাকা কাকুইয়ের উদ্যোগে এই অঞ্চলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পথ তৈরি হয়।
স্থানীয় অর্থনীতির বড় ভরসা
কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার মানুষ কাজ করেন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নিগাতা অঞ্চলের বাসিন্দা।
একসময় কেন্দ্রটির কর ও ভর্তুকি থেকে শহরের মোট আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি আসত। বর্তমানে সেটি কমে প্রায় ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, তবুও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব এখনো বড়।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে
তবে এই কেন্দ্র নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও কম নয়। ২০০৭ সালে নিগাতায় ভূমিকম্পের সময় কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, টোকিওর জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আঞ্চলিক শহরগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।
জনসংখ্যা কমছে শহরে
এদিকে শহরটির আরেকটি বড় সমস্যা জনসংখ্যা হ্রাস। ১৯৯৫ সালে কাশিওয়াজাকির জনসংখ্যা ছিল এক লাখের বেশি, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৭৫ হাজারের নিচে।
স্থানীয় প্রশাসন শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ডে-কেয়ার ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সুবিধা চালু করলেও অনেক মানুষ এখনও বড় শহর টোকিওর দিকে চলে যাচ্ছে।
মেয়র সাকুরাই মাসাহিরোর ভাষায়, ভালো চাল ও সাকে থাকলেও টোকিওর আকর্ষণের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















