০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে? ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ট্রাম্প কী করবেন—পিছু হটবেন নাকি সংঘাত আরও বাড়াবেন?

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন—এই প্রশ্ন এখন ওয়াশিংটনসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয়। যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে ট্রাম্প কি ক্ষতি মেনে পিছু হটবেন, নাকি আরও জোরালোভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়বেন—তা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান “চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ” চলতে পারে, আবার প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ হতে পারে। প্রশাসনের ভেতর থেকেও যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সরকার পরিবর্তন নয়। বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তাদের সমর্থিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে সীমিত করা।

তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এই অভিযান ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না: ট্রাম্প

কম জনসমর্থনে শুরু যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের আগের বড় যুদ্ধগুলো—আফগানিস্তান ও ইরাক—শুরুর সময় জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু ইরান সংঘাত সেই ধরনের জনসমর্থন নিয়ে শুরু হয়নি।

এক জরিপে দেখা গেছে, হামলার আগে মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সেই সমর্থনে খুব বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ইরানে হামলার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ মানুষ | কালবেলা

কংগ্রেসে বিভক্ত অবস্থান

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে একটি প্রস্তাব তুলেছিল, যাতে ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু সিনেট সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই প্রেসিডেন্টের অবস্থানের পক্ষে রয়েছে। যদিও দলের ভেতর কিছু প্রভাবশালী কণ্ঠ যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অর্থনীতিতে চাপের আশঙ্কা

সংঘাত দীর্ঘ হলে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার হুমকি দিয়েছে—যেখানে দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।

তেলের দাম বাড়লে তা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা বাজারেও প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনের সময় মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পের জন্য এটি বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা -

সামরিক ঝুঁকি ও হতাহতের সম্ভাবনা

প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন যে সংঘাত চলাকালে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসন আপাতত বিমান হামলার ওপর নির্ভর করতে চাইলেও স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক ঝুঁকির হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। সংঘাত দীর্ঘ হলে এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে জনসমর্থন দ্রুত কমে যেতে পারে।

সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—যদি যুদ্ধ থেকে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সুবিধা না আসে, তাহলে ট্রাম্প কি সংঘাত শেষ করার পথ বেছে নেবেন, নাকি ‘জয়ের’ আশায় আরও গভীরে জড়িয়ে পড়বেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে?

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ট্রাম্প কী করবেন—পিছু হটবেন নাকি সংঘাত আরও বাড়াবেন?

০৩:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন—এই প্রশ্ন এখন ওয়াশিংটনসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয়। যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে ট্রাম্প কি ক্ষতি মেনে পিছু হটবেন, নাকি আরও জোরালোভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়বেন—তা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান “চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ” চলতে পারে, আবার প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ হতে পারে। প্রশাসনের ভেতর থেকেও যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সরকার পরিবর্তন নয়। বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তাদের সমর্থিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে সীমিত করা।

তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এই অভিযান ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না: ট্রাম্প

কম জনসমর্থনে শুরু যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের আগের বড় যুদ্ধগুলো—আফগানিস্তান ও ইরাক—শুরুর সময় জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু ইরান সংঘাত সেই ধরনের জনসমর্থন নিয়ে শুরু হয়নি।

এক জরিপে দেখা গেছে, হামলার আগে মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সেই সমর্থনে খুব বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ইরানে হামলার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ মানুষ | কালবেলা

কংগ্রেসে বিভক্ত অবস্থান

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে একটি প্রস্তাব তুলেছিল, যাতে ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু সিনেট সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই প্রেসিডেন্টের অবস্থানের পক্ষে রয়েছে। যদিও দলের ভেতর কিছু প্রভাবশালী কণ্ঠ যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অর্থনীতিতে চাপের আশঙ্কা

সংঘাত দীর্ঘ হলে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার হুমকি দিয়েছে—যেখানে দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।

তেলের দাম বাড়লে তা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা বাজারেও প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনের সময় মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পের জন্য এটি বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা -

সামরিক ঝুঁকি ও হতাহতের সম্ভাবনা

প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন যে সংঘাত চলাকালে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসন আপাতত বিমান হামলার ওপর নির্ভর করতে চাইলেও স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক ঝুঁকির হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। সংঘাত দীর্ঘ হলে এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে জনসমর্থন দ্রুত কমে যেতে পারে।

সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—যদি যুদ্ধ থেকে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সুবিধা না আসে, তাহলে ট্রাম্প কি সংঘাত শেষ করার পথ বেছে নেবেন, নাকি ‘জয়ের’ আশায় আরও গভীরে জড়িয়ে পড়বেন।