০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের ভয়ে পোষা প্রাণী নিয়ে দেশ ছাড়তে লাখ টাকার খরচ, আকাশছোঁয়া ভাড়া ও অনিশ্চয়তায় বিপাকে প্রবাসীরা যুদ্ধ শেষের আভাসে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান — নিক্কেই ৪%, কসপি ৬.৪% বাড়ল মার্কিন পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়াল — ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ‘নিজেদের তেল নিজেরা নাও’ — মিত্রদের একা ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৬ হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র — USS George H.W. Bush রওয়ানা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘আমরা ছয় মাস যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত, কোনো আলোচনা চলছে না’ ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা — লেবাননে ৭ জন নিহত, হিজবুল্লাহ কমান্ডার খতম ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ট্রাম্প: ‘ইরানকে চুক্তি করতে হবে না’ — একতরফাভাবে সরে আসার ইঙ্গিত

চীনের সহায়তায় নির্মিত প্রথম ইউরোপীয় রেলপথ চালু, বুদাপেস্ট–বেলগ্রেড লাইনে নতুন অধ্যায়

চীনের সহায়তায় নির্মিত বুদাপেস্ট–বেলগ্রেড রেলপথের পুরো অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম রেল প্রকল্প কার্যক্রম শুরু করল, যা বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের অংশ

৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টকে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০১৩ সালে চীন, হাঙ্গেরি ও সার্বিয়া যৌথভাবে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেয়।

চীনের লক্ষ্য ছিল ইউরোপে পণ্য পরিবহন দ্রুততর করা এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অবকাঠামো নির্মাণে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করা।

Traffic Soon to Start on the Serbian Section of the Budapest-Belgrade  Railway Line

বিলম্বের পর অবশেষে চালু

প্রকল্পটি কয়েক বছরের বিলম্বের পর সম্পূর্ণ হয়েছে। শুরুতে এটি দুই বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণে সময় বেড়ে যায়।

বর্তমানে পুরো রুট চালু হওয়ায় বুদাপেস্ট থেকে বেলগ্রেডে ট্রেনযাত্রার সময় প্রায় আট ঘণ্টা থেকে কমে তিন থেকে চার ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপে চীনের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছে। এই রেলপথকে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

বিশেষ করে হাঙ্গেরি ও সার্বিয়া ইউরোপে চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

Freight services on the Hungarian section of the Budapest-Belgrade railway  officially resumed just after midnight on Friday, with the first train  departing from Budapest's Ferencvaros station. The Budapest-Belgrade railway,  a flagship project

রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে

হাঙ্গেরিতে এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দেশটির সরকার প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে, যার শর্তাবলীর অনেক অংশ গোপন রাখা হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি লাভজনক নাও হতে পারে এবং এতে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে।

বাণিজ্যিক করিডোর গড়ার পরিকল্পনা

এই রেলপথকে গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরের সঙ্গে ইউরোপের বাজার যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিরেয়াস বন্দরটি ২০১৬ সাল থেকে চীনা শিপিং কোম্পানি কসকোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এই রেলপথ ইউরোপে চীনা পণ্যের প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নাও পারে, কারণ বর্তমান পরিবহন নেটওয়ার্কে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

Péter Szijjártó: the construction of the Budapest-Belgrade railway line has  reached its most important milestone so far - Eurasia

ইউরোপ–চীন সম্পর্কের প্রতীক

বিশ্লেষকদের মতে, বুদাপেস্ট–বেলগ্রেড রেলপথ শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি ইউরোপে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতির প্রতীক।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই ধরনের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের ভয়ে পোষা প্রাণী নিয়ে দেশ ছাড়তে লাখ টাকার খরচ, আকাশছোঁয়া ভাড়া ও অনিশ্চয়তায় বিপাকে প্রবাসীরা

চীনের সহায়তায় নির্মিত প্রথম ইউরোপীয় রেলপথ চালু, বুদাপেস্ট–বেলগ্রেড লাইনে নতুন অধ্যায়

০৩:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

চীনের সহায়তায় নির্মিত বুদাপেস্ট–বেলগ্রেড রেলপথের পুরো অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম রেল প্রকল্প কার্যক্রম শুরু করল, যা বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের অংশ

৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টকে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০১৩ সালে চীন, হাঙ্গেরি ও সার্বিয়া যৌথভাবে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেয়।

চীনের লক্ষ্য ছিল ইউরোপে পণ্য পরিবহন দ্রুততর করা এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অবকাঠামো নির্মাণে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করা।

Traffic Soon to Start on the Serbian Section of the Budapest-Belgrade  Railway Line

বিলম্বের পর অবশেষে চালু

প্রকল্পটি কয়েক বছরের বিলম্বের পর সম্পূর্ণ হয়েছে। শুরুতে এটি দুই বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণে সময় বেড়ে যায়।

বর্তমানে পুরো রুট চালু হওয়ায় বুদাপেস্ট থেকে বেলগ্রেডে ট্রেনযাত্রার সময় প্রায় আট ঘণ্টা থেকে কমে তিন থেকে চার ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপে চীনের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছে। এই রেলপথকে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

বিশেষ করে হাঙ্গেরি ও সার্বিয়া ইউরোপে চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

Freight services on the Hungarian section of the Budapest-Belgrade railway  officially resumed just after midnight on Friday, with the first train  departing from Budapest's Ferencvaros station. The Budapest-Belgrade railway,  a flagship project

রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে

হাঙ্গেরিতে এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দেশটির সরকার প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে, যার শর্তাবলীর অনেক অংশ গোপন রাখা হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি লাভজনক নাও হতে পারে এবং এতে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে।

বাণিজ্যিক করিডোর গড়ার পরিকল্পনা

এই রেলপথকে গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরের সঙ্গে ইউরোপের বাজার যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিরেয়াস বন্দরটি ২০১৬ সাল থেকে চীনা শিপিং কোম্পানি কসকোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এই রেলপথ ইউরোপে চীনা পণ্যের প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নাও পারে, কারণ বর্তমান পরিবহন নেটওয়ার্কে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

Péter Szijjártó: the construction of the Budapest-Belgrade railway line has  reached its most important milestone so far - Eurasia

ইউরোপ–চীন সম্পর্কের প্রতীক

বিশ্লেষকদের মতে, বুদাপেস্ট–বেলগ্রেড রেলপথ শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি ইউরোপে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতির প্রতীক।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই ধরনের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে।