০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৬ হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র — USS George H.W. Bush রওয়ানা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘আমরা ছয় মাস যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত, কোনো আলোচনা চলছে না’ ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা — লেবাননে ৭ জন নিহত, হিজবুল্লাহ কমান্ডার খতম ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ট্রাম্প: ‘ইরানকে চুক্তি করতে হবে না’ — একতরফাভাবে সরে আসার ইঙ্গিত আজ রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প — ইরান নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আপডেট’ আসছে কাতারের উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপোতে ইরানের ড্রোন হামলা — বিশাল আগুন পাসওভারের রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে — ১০ বছরের শিশু গুরুতর আহত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সকল সামরিক বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা, উত্তেজনা ছড়াল মধ্যপ্রাচ্যে

ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের পর দেশটির সামরিক নেতৃত্ব তার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সামরিক বাহিনীর আনুগত্য
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত।

এই ঘোষণা ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, কারণ দেশটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এক্সপার্টস পরিষদের বৈঠক
রবিবার ইরানের এক্সপার্টস পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য বৈঠকে বসে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সম্ভাব্য হামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নতুন নেতার নাম ঘোষণার পর তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনি দেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি নতুন নেতাকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।

Iran's supreme leader tacitly acknowledges that Tehran hit little in its  attack on Israel – CBS17.com

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও প্রতিশোধমূলক হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ড্রোন হামলা ও সৌদির প্রতিরক্ষা
কয়েক দিন আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে।

রবিবার ভোরে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কূটনৈতিক এলাকাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। শান্ত ও গাছপালায় ঘেরা এই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে।

মার্কিন সতর্কতা ও কূটনৈতিক কর্মী প্রত্যাহার
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের জন্য সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে এবং কিছু কর্মীকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।

এর পাশাপাশি কাতার, কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকেও কর্মীদের একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হামলা
এদিকে ইসরায়েল ইরানের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, শনিবারের এক হামলায় সর্বোচ্চ নেতার সামরিক কার্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান আবোলকাসেম বাবাইয়ান নিহত হয়েছেন।

এই ধারাবাহিক হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সকল সামরিক বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা, উত্তেজনা ছড়াল মধ্যপ্রাচ্যে

১২:২৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের পর দেশটির সামরিক নেতৃত্ব তার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সামরিক বাহিনীর আনুগত্য
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত।

এই ঘোষণা ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, কারণ দেশটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এক্সপার্টস পরিষদের বৈঠক
রবিবার ইরানের এক্সপার্টস পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য বৈঠকে বসে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সম্ভাব্য হামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নতুন নেতার নাম ঘোষণার পর তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনি দেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি নতুন নেতাকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।

Iran's supreme leader tacitly acknowledges that Tehran hit little in its  attack on Israel – CBS17.com

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও প্রতিশোধমূলক হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ড্রোন হামলা ও সৌদির প্রতিরক্ষা
কয়েক দিন আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে।

রবিবার ভোরে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কূটনৈতিক এলাকাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। শান্ত ও গাছপালায় ঘেরা এই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে।

মার্কিন সতর্কতা ও কূটনৈতিক কর্মী প্রত্যাহার
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের জন্য সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে এবং কিছু কর্মীকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।

এর পাশাপাশি কাতার, কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকেও কর্মীদের একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হামলা
এদিকে ইসরায়েল ইরানের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, শনিবারের এক হামলায় সর্বোচ্চ নেতার সামরিক কার্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান আবোলকাসেম বাবাইয়ান নিহত হয়েছেন।

এই ধারাবাহিক হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।