০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৬ হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র — USS George H.W. Bush রওয়ানা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘আমরা ছয় মাস যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত, কোনো আলোচনা চলছে না’ ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা — লেবাননে ৭ জন নিহত, হিজবুল্লাহ কমান্ডার খতম ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ট্রাম্প: ‘ইরানকে চুক্তি করতে হবে না’ — একতরফাভাবে সরে আসার ইঙ্গিত আজ রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প — ইরান নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আপডেট’ আসছে কাতারের উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপোতে ইরানের ড্রোন হামলা — বিশাল আগুন পাসওভারের রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে — ১০ বছরের শিশু গুরুতর আহত

চীনের অস্ত্র আমদানি ৫ বছরে কমেছে ৭২ শতাংশ: কেন এমন পতন?

চীন গত পাঁচ বছরে বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমিয়ে দিয়েছে। একটি সুইডিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর কারণেই এই বড় পতন ঘটেছে।

তবে একই সময়ে এশিয়া ও ওশেনিয়ার অনেক দেশ বিদেশ থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আশঙ্কাই এর অন্যতম কারণ।

এশিয়া-ওশেনিয়ায় অস্ত্র আমদানি

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির ৩১ শতাংশই হয়েছে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে। এই ক্ষেত্রে ইউরোপ প্রথম স্থানে রয়েছে, যার অংশ ৩৩ শতাংশ।

তবে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে অস্ত্র আমদানির অংশ প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ হলো চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের অস্ত্র আমদানি কমেছে ৭২ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের আমদানি কমিয়েছে ৫৪ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া কমিয়েছে ৩৯ শতাংশ।

চীনের অবস্থান পরিবর্তন

সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের অস্ত্র আমদানিকারী দেশের তালিকায় চীন এখন ২১তম অবস্থানে নেমে গেছে। ১৯৯১-৯৫ সালের পর এই প্রথমবারের মতো দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ১০ আমদানিকারীর তালিকার বাইরে চলে গেছে।

চীনের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী এখনও রাশিয়া। দেশটি চীনের মোট অস্ত্র আমদানির ৬৬ শতাংশ সরবরাহ করে। তবে বেইজিং ধীরে ধীরে রুশ প্রযুক্তি থেকে সরে এসে নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে, বিশেষ করে হেলিকপ্টার এবং বিমান ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়াকেও নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে। ফলে তাদের রপ্তানি সক্ষমতা কমে গেছে।

এশিয়ায় অস্ত্র আমদানির প্রবণতা

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০টি বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারী দেশের তালিকায় এশিয়া ও ওশেনিয়ার চারটি দেশ রয়েছে—ভারত, পাকিস্তান, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া।

এই অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। মোট সরবরাহের ৩৫ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এরপর রয়েছে রাশিয়া ১৭ শতাংশ এবং চীন ১৪ শতাংশ।

পূর্ব এশিয়ায় জাপান এবং তাইওয়ানের অস্ত্র আমদানিতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০১৬-২০ সময়কালের তুলনায় ২০২১-২৫ সময়কালে জাপানের আমদানি বেড়েছে ৭৬ শতাংশ এবং তাইওয়ানের বেড়েছে ৫৪ শতাংশ।

গত বছর টোকিও আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানের মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করে একীভূত করার কথা বলে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ অধিকাংশ দেশ তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, তবুও ওয়াশিংটন দ্বীপটিকে জোরপূর্বক দখলের বিরোধিতা করে এবং তাকে অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

China cuts arms imports to rely more on its own weapons tech but Russia  still biggest overseas supplier: SIPRI | South China Morning Post

দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা

২০২১-২৫ সময়কালে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারী দেশ ছিল, যার অংশ ৮.২ শতাংশ। তবে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ভারতের আমদানি প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী এখনও রাশিয়া। কিন্তু দেশটির অস্ত্র আমদানিতে রাশিয়ার অংশ কমে এখন ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৬-২১ সময়কালে এটি ছিল ৫১ শতাংশ এবং ২০১১-১৫ সময়কালে ছিল ৭০ শতাংশ।

গত এক দশকে ভারত ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ভারতের অস্ত্র আমদানির বড় কারণ। গত বছরের মে মাসে কাশ্মীর অঞ্চলকে ঘিরে সংঘর্ষের পর ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই আমদানি করা অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০১৬-২০ সময়কালের তুলনায় ২০২১-২৫ সময়কালে দেশটির অস্ত্র আমদানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী চীন। ২০২১-২৫ সময়কালে পাকিস্তানের মোট অস্ত্র ক্রয়ের ৮০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। আগের পাঁচ বছরে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ।

চীনের সামরিক শক্তি নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ

সিপ্রির অস্ত্র স্থানান্তর বিষয়ক গবেষক সিমন ওয়েজেম্যান বলেন, চীনের উদ্দেশ্য এবং দ্রুত বাড়তে থাকা সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আশঙ্কা এশিয়া ও ওশেনিয়ার অনেক দেশে অস্ত্র সংগ্রহের প্রবণতা বাড়াচ্ছে।

তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিপুল অস্ত্র আমদানির পেছনে চীন থেকে সম্ভাব্য হুমকি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে উভয় দেশই আমদানি করা অস্ত্র ব্যবহার করেছে। উল্লেখ্য, দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর।

বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বাণিজ্যের প্রবণতা

বিশ্বজুড়ে অস্ত্র স্থানান্তরের পরিমাণও বেড়েছে। ২০১৬-২০ সময়কালের তুলনায় ২০২১-২৫ সময়কালে এটি বেড়েছে প্রায় ৯.২ শতাংশ। ২০১১-১৫ সময়কালের পর এটিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্রবাহ।

ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র আমদানি তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। সিপ্রি জানিয়েছে, এই সময় ইউরোপে অস্ত্র আমদানি ২১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর প্রধান কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ইউক্রেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২১-২৫ সময়কালে বিশ্বের মোট অস্ত্র স্থানান্তরের ৯.৭ শতাংশই গেছে ইউক্রেনে।

এ ছাড়া রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির কারণে ইউরোপের অন্যান্য দেশও নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে অস্ত্র সংগ্রহ বাড়িয়েছে। ফলে ইউরোপ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র গ্রহণকারী অঞ্চল।

অস্ত্র রপ্তানিতে শক্তির ভারসাম্য

অস্ত্র রপ্তানির তালিকায় চীন এক ধাপ নেমে পঞ্চম স্থানে গেছে। বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানির ৫.৬ শতাংশ এখন চীনের দখলে, যদিও তাদের বিক্রি ১১ শতাংশ বেড়েছে। জার্মানি ৫.৭ শতাংশ অংশ নিয়ে চীনকে পেছনে ফেলে চতুর্থ স্থানে উঠেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানিকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ২০২১-২৫ সময়কালে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্যের ৪২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল।

আগের পাঁচ বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে তাদের অস্ত্র বিক্রি ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে ইউরোপই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।

সিপ্রির গবেষক পিটার ওয়েজেম্যান বলেন, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠলেও অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য আরও দৃঢ় হয়েছে।

তার মতে, অনেক দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উন্নত সামরিক সক্ষমতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদার করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র রপ্তানিকে তাদের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং নিজস্ব অস্ত্র শিল্প শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করে।

২০২১-২৫ সময়কালে ফ্রান্স বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল। বৈশ্বিক রপ্তানির ৯.৮ শতাংশ তাদের দখলে, যা আগের সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে রাশিয়া ছিল তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী। তবে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে একমাত্র রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানি কমেছে—প্রায় ৬৪ শতাংশ। ফলে বৈশ্বিক রপ্তানিতে তাদের অংশ ২১ শতাংশ থেকে নেমে ৬.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ

চীনের অস্ত্র আমদানি ৫ বছরে কমেছে ৭২ শতাংশ: কেন এমন পতন?

১২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

চীন গত পাঁচ বছরে বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমিয়ে দিয়েছে। একটি সুইডিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর কারণেই এই বড় পতন ঘটেছে।

তবে একই সময়ে এশিয়া ও ওশেনিয়ার অনেক দেশ বিদেশ থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আশঙ্কাই এর অন্যতম কারণ।

এশিয়া-ওশেনিয়ায় অস্ত্র আমদানি

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির ৩১ শতাংশই হয়েছে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে। এই ক্ষেত্রে ইউরোপ প্রথম স্থানে রয়েছে, যার অংশ ৩৩ শতাংশ।

তবে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে অস্ত্র আমদানির অংশ প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ হলো চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের অস্ত্র আমদানি কমেছে ৭২ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের আমদানি কমিয়েছে ৫৪ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া কমিয়েছে ৩৯ শতাংশ।

চীনের অবস্থান পরিবর্তন

সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের অস্ত্র আমদানিকারী দেশের তালিকায় চীন এখন ২১তম অবস্থানে নেমে গেছে। ১৯৯১-৯৫ সালের পর এই প্রথমবারের মতো দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ১০ আমদানিকারীর তালিকার বাইরে চলে গেছে।

চীনের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী এখনও রাশিয়া। দেশটি চীনের মোট অস্ত্র আমদানির ৬৬ শতাংশ সরবরাহ করে। তবে বেইজিং ধীরে ধীরে রুশ প্রযুক্তি থেকে সরে এসে নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে, বিশেষ করে হেলিকপ্টার এবং বিমান ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়াকেও নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে। ফলে তাদের রপ্তানি সক্ষমতা কমে গেছে।

এশিয়ায় অস্ত্র আমদানির প্রবণতা

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০টি বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারী দেশের তালিকায় এশিয়া ও ওশেনিয়ার চারটি দেশ রয়েছে—ভারত, পাকিস্তান, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া।

এই অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। মোট সরবরাহের ৩৫ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এরপর রয়েছে রাশিয়া ১৭ শতাংশ এবং চীন ১৪ শতাংশ।

পূর্ব এশিয়ায় জাপান এবং তাইওয়ানের অস্ত্র আমদানিতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০১৬-২০ সময়কালের তুলনায় ২০২১-২৫ সময়কালে জাপানের আমদানি বেড়েছে ৭৬ শতাংশ এবং তাইওয়ানের বেড়েছে ৫৪ শতাংশ।

গত বছর টোকিও আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানের মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করে একীভূত করার কথা বলে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ অধিকাংশ দেশ তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, তবুও ওয়াশিংটন দ্বীপটিকে জোরপূর্বক দখলের বিরোধিতা করে এবং তাকে অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

China cuts arms imports to rely more on its own weapons tech but Russia  still biggest overseas supplier: SIPRI | South China Morning Post

দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা

২০২১-২৫ সময়কালে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারী দেশ ছিল, যার অংশ ৮.২ শতাংশ। তবে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ভারতের আমদানি প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী এখনও রাশিয়া। কিন্তু দেশটির অস্ত্র আমদানিতে রাশিয়ার অংশ কমে এখন ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৬-২১ সময়কালে এটি ছিল ৫১ শতাংশ এবং ২০১১-১৫ সময়কালে ছিল ৭০ শতাংশ।

গত এক দশকে ভারত ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ভারতের অস্ত্র আমদানির বড় কারণ। গত বছরের মে মাসে কাশ্মীর অঞ্চলকে ঘিরে সংঘর্ষের পর ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই আমদানি করা অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০১৬-২০ সময়কালের তুলনায় ২০২১-২৫ সময়কালে দেশটির অস্ত্র আমদানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী চীন। ২০২১-২৫ সময়কালে পাকিস্তানের মোট অস্ত্র ক্রয়ের ৮০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। আগের পাঁচ বছরে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ।

চীনের সামরিক শক্তি নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ

সিপ্রির অস্ত্র স্থানান্তর বিষয়ক গবেষক সিমন ওয়েজেম্যান বলেন, চীনের উদ্দেশ্য এবং দ্রুত বাড়তে থাকা সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আশঙ্কা এশিয়া ও ওশেনিয়ার অনেক দেশে অস্ত্র সংগ্রহের প্রবণতা বাড়াচ্ছে।

তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিপুল অস্ত্র আমদানির পেছনে চীন থেকে সম্ভাব্য হুমকি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে উভয় দেশই আমদানি করা অস্ত্র ব্যবহার করেছে। উল্লেখ্য, দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর।

বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বাণিজ্যের প্রবণতা

বিশ্বজুড়ে অস্ত্র স্থানান্তরের পরিমাণও বেড়েছে। ২০১৬-২০ সময়কালের তুলনায় ২০২১-২৫ সময়কালে এটি বেড়েছে প্রায় ৯.২ শতাংশ। ২০১১-১৫ সময়কালের পর এটিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্রবাহ।

ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র আমদানি তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। সিপ্রি জানিয়েছে, এই সময় ইউরোপে অস্ত্র আমদানি ২১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর প্রধান কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ইউক্রেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২১-২৫ সময়কালে বিশ্বের মোট অস্ত্র স্থানান্তরের ৯.৭ শতাংশই গেছে ইউক্রেনে।

এ ছাড়া রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির কারণে ইউরোপের অন্যান্য দেশও নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে অস্ত্র সংগ্রহ বাড়িয়েছে। ফলে ইউরোপ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র গ্রহণকারী অঞ্চল।

অস্ত্র রপ্তানিতে শক্তির ভারসাম্য

অস্ত্র রপ্তানির তালিকায় চীন এক ধাপ নেমে পঞ্চম স্থানে গেছে। বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানির ৫.৬ শতাংশ এখন চীনের দখলে, যদিও তাদের বিক্রি ১১ শতাংশ বেড়েছে। জার্মানি ৫.৭ শতাংশ অংশ নিয়ে চীনকে পেছনে ফেলে চতুর্থ স্থানে উঠেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানিকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ২০২১-২৫ সময়কালে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্যের ৪২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল।

আগের পাঁচ বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে তাদের অস্ত্র বিক্রি ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে ইউরোপই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।

সিপ্রির গবেষক পিটার ওয়েজেম্যান বলেন, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠলেও অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য আরও দৃঢ় হয়েছে।

তার মতে, অনেক দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উন্নত সামরিক সক্ষমতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদার করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র রপ্তানিকে তাদের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং নিজস্ব অস্ত্র শিল্প শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করে।

২০২১-২৫ সময়কালে ফ্রান্স বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল। বৈশ্বিক রপ্তানির ৯.৮ শতাংশ তাদের দখলে, যা আগের সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে রাশিয়া ছিল তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী। তবে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে একমাত্র রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানি কমেছে—প্রায় ৬৪ শতাংশ। ফলে বৈশ্বিক রপ্তানিতে তাদের অংশ ২১ শতাংশ থেকে নেমে ৬.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।